১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা, ক্যাপশন ও কবিতা ২০২৫

By Ayan

Updated on:

বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা ছবি

১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবময় একটি দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের পর আমরা অর্জন করি চূড়ান্ত বিজয় এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। তাই ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা শুধু একটি আনুষ্ঠানিক বার্তা নয়—এটি শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং প্রিয় মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ।

বিজয়ের এই দিনে লাল-সবুজের পতাকার নিচে দাঁড়িয়ে আমরা স্মরণ করি সেই অমর ত্যাগ, যে ত্যাগ আমাদের দিয়েছে স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার, নিজের পরিচয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচার শক্তি। আজকের বাংলাদেশকে আরও সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ করার শপথ নেওয়ারও দিন এই বিজয় দিবস। তাই আসুন, বিজয়ের চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়ে সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা—শুভ বিজয় দিবস ২০২৫

বিজয় দিবসের ক্যাপশন

বিজয়ের গল্প বইয়ে নয়, আমাদের চারপাশে—যে মানুষগুলো যুদ্ধ দেখেছে, হারিয়েছে, তবু মাথা উঁচু করে বেঁচে আছে।

মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা—লাল-সবুজের গৌরবে ভরে উঠুক হৃদয়। 🇧🇩

১৬ ডিসেম্বর আমাদের অহংকার, আমাদের পরিচয়—শুভ বিজয় দিবস। ✨

শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ হোক দেশ গড়ার কাজে—বিজয়ের শুভেচ্ছা। 🕊️

বিজয়ের এই দিনে স্বপ্ন দেখি আরও সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশের। 🌿

স্বাধীনতার দামটা বুঝি যখন দেখি—একটা পতাকা উঠতে কত ত্যাগ লাগে, কত ঘাম-রক্ত লাগে।

বিজয় দিবসে মনে পড়ে—কেউ ফিরে আসেনি, কিন্তু তাদের স্বপ্নেই আমরা আজ কথা বলি মুক্তভাবে।

লাল-সবুজ শুধু রঙ নয়—এটা শহীদের রক্ত আর স্বপ্নের বাংলাদেশ, যে স্বপ্ন এখনো আমাদের পথ দেখায়।

আজকের বিজয় মানে আগামীকে আরও ভালো করা—দুর্নীতি, বৈষম্য, ঘৃণার বিরুদ্ধে প্রতিদিন যুদ্ধ জিতে নেওয়া।

১৬ ডিসেম্বর মানে শুধু ছুটি না—এই দিনটা আমাদের মাটি, মানুষ আর লাল-সবুজের কাছে দায়বদ্ধ থাকার শপথ।

স্বাধীনতা পাওয়ার গল্প যেমন গৌরবের, তেমনি দায়িত্বের—দেশকে ভালোবাসা মানে দেশকে ঠিক রাখার চেষ্টা।

বিজয়ের দিনে সবচেয়ে বড় শ্রদ্ধা—যে মানুষগুলো নীরবে দেশ গড়ছে: কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, চিকিৎসক, সৈনিক।

১৯৭১ দূরের ইতিহাস নয়—এটা আমাদের পরিচয়ের শেকড়, যার ওপর দাঁড়িয়ে আমরা “বাংলাদেশি”।

যে মাটি রক্তে ভিজে স্বাধীন হয়েছে, সেই মাটিতে অন্যায়কে শেকড় গাড়তে না দেওয়াই বিজয়ের সত্যিকারের মানে।

বিজয় দিবসে মনে করি—আমরা আলাদা মত হতে পারি, কিন্তু দেশটা আমাদের একটাই।

আজকের দিনটা বলছে—স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই শেষ হয়নি; ভালো মানুষ হওয়াটাই প্রতিদিনের বিজয়।

আরও পড়ুন: দেশপ্রেম নিয়ে উক্তি

বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা স্ট্যাটাস

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকে নিয়ে এগিয়ে চলি—শুভ বিজয় দিবস। ❤️💚

বিজয়ের দিনে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা জানাই সকল বীর শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাকে—শুভ বিজয় দিবস। 🫡

লাল-সবুজের পথচলায় থাকুক সৎ সাহস আর মানবতার আলো—বিজয়ের শুভেচ্ছা। 🌈

স্বাধীন বাংলার আকাশে স্বপ্নগুলো আরও উঁচুতে উড়ুক—শুভ বিজয় দিবস। 🕊️🇧🇩

আমরা যেন প্রতিদিন দেশকে একটু বেশি ভালো করি—এই হোক বিজয় দিবসের অঙ্গীকার। 💪

গৌরবের এই দিনে নতুন করে বলি: বাংলাদেশ আমার প্রাণ—শুভ বিজয় দিবস। ❤️🇧🇩

স্বাধীনতার মূল্য ভুলে না গিয়ে দেশকে ভালোবাসি প্রতিদিন—বিজয়ের শুভেচ্ছা। 🙌

গর্বের লাল-সবুজ উড়ুক সবার মনে—মহান বিজয় দিবস মুবারক। 🎉

ঐক্যই আমাদের শক্তি, বিজয়ই আমাদের ইতিহাস—শুভদিনের শুভেচ্ছা। 🤝

১৯৭১-এর সাহস আমাদের পথ দেখাক আজও—শুভ বিজয় দিবস। 🔥

বিজয়ের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক ঘরে ঘরে—সবার জন্য শুভকামনা। 🌟

বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা ইসলামিক স্ট্যাটাস

আলহামদুলিল্লাহ—আল্লাহর রহমত ও শহীদদের ত্যাগে পাওয়া এই স্বাধীনতার বিজয় দিন আমাদের শোকরগুজার বানাক। শুভ বিজয় দিবস।

মহান রবের কাছে দোয়া—বাংলাদেশ হোক শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণের ভূমি। বিজয়ের শুভেচ্ছা।

১৬ ডিসেম্বর আমাদের জন্য আমানত—এই দেশকে হেফাজত করা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব। শুভ বিজয় দিবস।

শহীদদের আত্মত্যাগ কবুল করুন হে আল্লাহ, আর আমাদের দেশকে হেদায়েতের পথে রাখুন। আমিন।

লাল-সবুজের এই বিজয়ে আমরা দোয়া করি—দেশে ঈমান, ইনসাফ ও ভ্রাতৃত্ব আরও দৃঢ় হোক।

স্বাধীনতার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, আল্লাহ তাদের জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন। শুভ বিজয় দিবস।

বিজয়ের দিনে শপথ করি—সত্য, ন্যায় ও মানবতার পথে চলব, ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ আমাদের দেশকে ফিতনা, দুর্নীতি ও অবিচার থেকে হেফাজত করুন—এটাই বিজয় দিবসের দোয়া।

বিজয় দিবসে স্মরণ করি—দেশপ্রেম ঈমানের অংশ; তাই দেশ গড়ার কাজে থাকুক সততা।

আজকের দিন আমাদের শেখায়—আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়; কৃতজ্ঞতায় ভরে উঠুক হৃদয়। শুভ বিজয় দিবস।

বাংলাদেশের সৌন্দর্য নিয়ে উক্তি

বিজয় দিবস নিয়ে কিছু কথা

বিজয় দিবস আমাদের জাতীয় জীবনের সবচেয়ে গৌরবের দিন—যেদিন বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছিল।

১৯৭১ সালের এই বিজয়ের পেছনে আছে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগ আর মানুষের অদম্য সাহস।

বিজয় দিবস শুধু অতীত স্মরণ নয়; এটা বর্তমানকে শুদ্ধ করা ও ভবিষ্যৎকে ভালো করার অঙ্গীকারের দিন।

লাল-সবুজ পতাকার মানে আমরা নতুন করে বুঝি—লাল শহীদের রক্ত, সবুজ আমাদের আশা ও জীবন।

মুক্তিযুদ্ধ আমাদের শিখিয়েছে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে, সত্যের পাশে থাকতে এবং মানুষের মর্যাদা রক্ষা করতে।

বিজয়ের চেতনা মানে সাম্য, মানবিকতা ও ন্যায়—যেখানে কেউ অবহেলিত হবে না, কেউ বঞ্চিত থাকবে না।

এই দিন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে স্বাধীনতা একটা দায়িত্ব; দেশকে ভালো রাখা আমাদের দৈনন্দিন কর্তব্য।

শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো মানে শুধু ফুল দেওয়া নয়—তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে কাজ করা।

বিজয় দিবস ঐক্যের বার্তা দেয়—মতভেদ থাকলেও দেশের জন্য আমরা এক, এটাই বড় পরিচয়।

সর্বোপরি, বিজয় দিবস আমাদের প্রেরণা—প্রতিদিন নিজ নিজ জায়গা থেকে সৎভাবে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার শক্তি।

বিজয় দিবসের কবিতা

ষোলো ডিসেম্বর, ভোরের আলোয়,
পতাকার মতো জেগে ওঠে দেশ—
কুয়াশা ভেদ করে শোনা যায়
স্বাধীনতার প্রথম নিঃশ্বাসের রেশ।

মাঠ-ঘাট-নদী-নালায় লিখে রাখা
সেই রক্তচিহ্ন মুছে যায়নি আজও,
কারো নাম নেই, তবু তাদেরই ছায়া
হেঁটে চলে আমাদের পাশে নীরবে-আলো।

তারা বলেছিল, “ভয়কে হারাও,”
আমরা শিখেছি মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে;
তারা গিয়েছিল ফিরে না-আসার পথে,
আমরা শিখেছি স্বপ্নকে বাঁচাতে।

লাল মানে শুধু অতীতের ক্ষত নয়,
লাল মানে আগামীকে জাগিয়ে রাখা;
সবুজ মানে শুধু ধানের মাঠ নয়,
সবুজ মানে সত্যের পথে থাকা।

আজ বিজয়ের দিনে আমরা শপথ করি—
দেশকে ভালোবাসব কাজের ভাষায়,
অন্যায়-অসত্য-বিদ্বেষের বিরুদ্ধে
প্রতিদিন জিতব ছোট ছোট কৌশলায়।

কারণ বিজয় একদিনের উৎসব নয়,
বিজয় প্রতিদিনের দায়িত্বের নাম;
যে দেশ রক্তে স্বাধীন হয়েছে,
তাকে ভালো রাখাই আমাদের কাজ, আমাদের দাম।

শুভ বিজয় দিবস। 🇧🇩

বিজয় দিবসের ছবি ২০২৫

বিজয় দিবসের ছবি

১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস বক্তব্য

প্রিয় শিক্ষকবৃন্দ/অতিথিবৃন্দ, সম্মানিত অভিভাবক, আমার প্রিয় সহপাঠী/বন্ধুগণ, এবং উপস্থিত সকল শ্রোতা—
আসসালামু আলাইকুম/সুপ্রভাত।

আজ আমরা দাঁড়িয়ে আছি বাঙালি জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় ও আবেগঘন দিন—১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে। এই দিন বাংলাদেশের মানচিত্র রক্তে লেখা এক দীপ্তিমান সত্যের নাম, আত্মত্যাগে ভেজা এক মহান উপলব্ধির নাম, মুক্তির সুবাসে ভরা এক চূড়ান্ত অর্জনের নাম। আজকের এই দিনে আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি সেই কোটি মানুষের স্বপ্নকে, যাদের অশ্রু, কান্না, লড়াই ও জীবনদানের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

বিজয় দিবস কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
বিজয় দিবস শুধু একটি তারিখ নয়—এটি আমাদের জাতীয় সত্তার পুনর্জন্মের দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল। ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে জন্ম নিয়েছিল নতুন এক রাষ্ট্র—বাংলাদেশ। এই বিজয় ছিল শুধু সামরিক জয় নয়; এটি ছিল অন্যায়ের ওপর ন্যায়ের, শোষণের ওপর মুক্তির, অন্ধকারের ওপর আলোর বিজয়।

মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি ও সংগ্রাম
আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্ন একদিনে জন্ম নেয়নি। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর থেকে বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক অধিকার বারবার পদদলিত হয়েছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ৭০’র নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়—সবই ছিল স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে যাওয়া পদক্ষেপ। এরপর ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ঐতিহাসিক আহ্বান জানিয়েছিলেন—
“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”—
এই আহ্বানই পুরো জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার সাহস দিয়েছিল।

২৫শে মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নৃশংস হামলা শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ, পিলখানা—সহ নানা স্থানে নির্বিচারে হত্যা চালানো হয়। সেই রাত ছিল বাঙালির জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর রাত। কিন্তু সেই অন্ধকার রাতের বুকে জ্বলে উঠেছিল প্রতিরোধের আগুন। ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, চিকিৎসক, নারী-পুরুষ—সবাই একসাথে দাঁড়িয়েছিল স্বাধীনতার পক্ষে।

শহীদদের রক্ত ও নারীদের ত্যাগ
এই বিজয় এসেছে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে। এসেছে দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম হারানোর আর্তনাদ পেরিয়ে। এসেছে এক কোটির বেশি মানুষের শরণার্থী জীবনের কষ্ট সয়ে। যারা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন, যারা তথ্য দিয়ে, চিকিৎসা দিয়ে, খাবার দিয়ে, আশ্রয় দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেছেন—সবার সম্মিলিত ত্যাগেই আমাদের এই স্বাধীনতা।

সেইসব শহীদদের নাম হয়তো আমরা সবাই জানি না, কিন্তু তাদের আত্মত্যাগই আমাদের প্রতিটি নিঃশ্বাসের ভিত্তি। শহীদদের প্রতি আমাদের দায় শুধু শোক প্রকাশে সীমাবদ্ধ নয়—তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমে আমরা প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে পারি।

বিজয়ের অর্থ ও দায়িত্ব
প্রিয় উপস্থিতজন, বিজয় মানে কেবল পতাকা উড়ানো বা র‍্যালি করা নয়। বিজয় মানে নিজের দেশের প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করা। স্বাধীনতা মানে শুধু কথা বলার অধিকার নয়; এটি হলো সত্য বলার সাহস, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি, এবং মানুষের পাশে থাকার মানসিকতা।

আজকের বাংলাদেশ দারিদ্র্য, অশিক্ষা, দুর্নীতি, সাম্প্রদায়িকতা, মাদক, বেকারত্ব—এমন অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের শিখিয়েছে ঐক্যবদ্ধ হলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। তাই আমাদের দায়িত্ব হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে জীবন্ত রাখা এবং দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করা।

নতুন প্রজন্মের কাছে আহ্বান
আমরা যারা নতুন প্রজন্ম, আমাদের কাঁধেই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের দায়িত্ব। আমরা যদি ইতিহাস না জানি, তবে স্বাধীনতার মূল্য বুঝতে পারব না। ইতিহাস জানা মানে অতীতে আটকে থাকা নয়; ইতিহাস জানা মানে ভবিষ্যৎকে সঠিক পথে এগোনোর শক্তি অর্জন করা।

আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত—

  • সৎ ও মানবিক মানুষ হওয়া
  • শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে উঠা
  • ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে সকলের প্রতি সম্মান দেখানো
  • দেশের আইন মেনে চলা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা
  • দেশকে ভালোবাসা—শুধু আবেগে নয়, কাজে

বাংলাদেশকে আমরা এমন একটি দেশে পরিণত করতে চাই যেখানে ন্যায়, মানবতা, উন্নয়ন ও শান্তি থাকবে; যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না; যেখানে সবাই নিরাপদ ও সম্মানিত জীবন পাবে। এটাই ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন—এটাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।

শেষকথা
আজকের এই মহান দিনে আমরা আবারও শ্রদ্ধা জানাই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, তাঁর নেতৃত্বকে; শ্রদ্ধা জানাই চার জাতীয় নেতাকে; শ্রদ্ধা জানাই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের; এবং গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি সকল শহীদ ও নির্যাতিত মা-বোনদের।

আসুন আমরা শপথ করি—
আমরা স্বাধীনতার চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করব, দেশকে ভালোবাসব, দেশের জন্য কাজ করব, এবং এমন বাংলাদেশ গড়ব যেখানে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।

সবাইকে বিজয় দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা।

১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য

প্রিয় শিক্ষকবৃন্দ/অতিথিবৃন্দ, প্রিয় সহপাঠী ও উপস্থিত সবাই—আসসালামু আলাইকুম।

আজ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ শেষে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল, আর আমরা পেয়েছিলাম স্বাধীন বাংলাদেশ। এই বিজয় এসেছে লাখো শহীদের রক্ত, মুক্তিযোদ্ধাদের সাহস ও সাধারণ মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে। তাই আজকের দিনটি আমাদের গর্ব, ভালোবাসা এবং দায়িত্বের দিন।

বিজয় দিবস আমাদের শেখায়—ঐক্য, সাহস ও ন্যায়ের পথে থাকলে কোনো পরাধীনতা টিকে থাকতে পারে না। আমরা নতুন প্রজন্ম দেশকে ভালোবাসব শুধু কথায় নয়, কাজে—সততা, পরিশ্রম, শিক্ষা ও মানবিকতা দিয়ে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ব।

সব শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলি—
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

উপসংহার

বিজয় দিবস আমাদের জন্য একদিকে আনন্দ ও গর্বের, অন্যদিকে দায়িত্ব ও অঙ্গীকারের স্মারক। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে আমরা আসলে নতুন করে প্রতিজ্ঞা করি—বাংলাদেশকে ভালোবাসব কাজে, সততায় ও মানবিকতায়। শহীদদের রক্ত ও মায়েদের অশ্রু দিয়ে কেনা এই স্বাধীনতাকে সম্মান করতে হলে প্রতিদিন দেশ গড়ার কাজে সৎভাবে এগিয়ে যেতে হবে। জাতীয় ঐক্য, ন্যায়বোধ ও দেশপ্রেমকে শক্ত করে ধরলেই বিজয়ের আসল অর্থ পূর্ণতা পায়।

তাই বিজয়ের এই মহান দিনে সবার জীবনে শান্তি, সম্মান ও সমৃদ্ধি কামনা করি। লাল-সবুজের গৌরব অটুট থাকুক, বাংলাদেশ এগিয়ে যাক আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে—শুভ বিজয় দিবস। 🇧🇩

Ayan

আয়ান, বাংলা ভাষার প্রেমে পড়া একজন সৃজনশীল লেখক, যিনি মনোমুগ্ধকর ক্যাপশন, স্ট্যাটাস ও উক্তি লিখে পাঠকদের মন জয় করেন। শব্দের মাধ্যমে আবেগ প্রকাশ করাই তাঁর অন্যতম নেশা। ভালোবাসা, অনুপ্রেরণা, বন্ধুত্ব, হাসি-মজা—সব ধরনের ক্যাপশন লেখার ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা অসাধারণ। পছন্দের বিষয়: ক্যাপশন রচনা, সাহিত্য, উক্তি ও জীবন দর্শন।

Leave a Comment