১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবময় একটি দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের পর আমরা অর্জন করি চূড়ান্ত বিজয় এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। তাই ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা শুধু একটি আনুষ্ঠানিক বার্তা নয়—এটি শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং প্রিয় মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ।
বিজয়ের এই দিনে লাল-সবুজের পতাকার নিচে দাঁড়িয়ে আমরা স্মরণ করি সেই অমর ত্যাগ, যে ত্যাগ আমাদের দিয়েছে স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার, নিজের পরিচয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচার শক্তি। আজকের বাংলাদেশকে আরও সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ করার শপথ নেওয়ারও দিন এই বিজয় দিবস। তাই আসুন, বিজয়ের চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়ে সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা—শুভ বিজয় দিবস ২০২৫।
এখানে আপনি পাবেন:
বিজয় দিবসের ক্যাপশন
বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা স্ট্যাটাস
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকে নিয়ে এগিয়ে চলি—শুভ বিজয় দিবস। ❤️💚
স্বাধীনতার মূল্য ভুলে না গিয়ে দেশকে ভালোবাসি প্রতিদিন—বিজয়ের শুভেচ্ছা। 🙌
গর্বের লাল-সবুজ উড়ুক সবার মনে—মহান বিজয় দিবস মুবারক। 🎉
ঐক্যই আমাদের শক্তি, বিজয়ই আমাদের ইতিহাস—শুভদিনের শুভেচ্ছা। 🤝
১৯৭১-এর সাহস আমাদের পথ দেখাক আজও—শুভ বিজয় দিবস। 🔥
বিজয়ের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক ঘরে ঘরে—সবার জন্য শুভকামনা। 🌟
বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা ইসলামিক স্ট্যাটাস
আলহামদুলিল্লাহ—আল্লাহর রহমত ও শহীদদের ত্যাগে পাওয়া এই স্বাধীনতার বিজয় দিন আমাদের শোকরগুজার বানাক। শুভ বিজয় দিবস।
মহান রবের কাছে দোয়া—বাংলাদেশ হোক শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণের ভূমি। বিজয়ের শুভেচ্ছা।
১৬ ডিসেম্বর আমাদের জন্য আমানত—এই দেশকে হেফাজত করা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব। শুভ বিজয় দিবস।
শহীদদের আত্মত্যাগ কবুল করুন হে আল্লাহ, আর আমাদের দেশকে হেদায়েতের পথে রাখুন। আমিন।
লাল-সবুজের এই বিজয়ে আমরা দোয়া করি—দেশে ঈমান, ইনসাফ ও ভ্রাতৃত্ব আরও দৃঢ় হোক।
স্বাধীনতার জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, আল্লাহ তাদের জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন। শুভ বিজয় দিবস।
বিজয়ের দিনে শপথ করি—সত্য, ন্যায় ও মানবতার পথে চলব, ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ আমাদের দেশকে ফিতনা, দুর্নীতি ও অবিচার থেকে হেফাজত করুন—এটাই বিজয় দিবসের দোয়া।
বিজয় দিবসে স্মরণ করি—দেশপ্রেম ঈমানের অংশ; তাই দেশ গড়ার কাজে থাকুক সততা।
আজকের দিন আমাদের শেখায়—আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়; কৃতজ্ঞতায় ভরে উঠুক হৃদয়। শুভ বিজয় দিবস।
বিজয় দিবস নিয়ে কিছু কথা
বিজয় দিবসের কবিতা
ষোলো ডিসেম্বর, ভোরের আলোয়,
পতাকার মতো জেগে ওঠে দেশ—
কুয়াশা ভেদ করে শোনা যায়
স্বাধীনতার প্রথম নিঃশ্বাসের রেশ।
মাঠ-ঘাট-নদী-নালায় লিখে রাখা
সেই রক্তচিহ্ন মুছে যায়নি আজও,
কারো নাম নেই, তবু তাদেরই ছায়া
হেঁটে চলে আমাদের পাশে নীরবে-আলো।
তারা বলেছিল, “ভয়কে হারাও,”
আমরা শিখেছি মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে;
তারা গিয়েছিল ফিরে না-আসার পথে,
আমরা শিখেছি স্বপ্নকে বাঁচাতে।
লাল মানে শুধু অতীতের ক্ষত নয়,
লাল মানে আগামীকে জাগিয়ে রাখা;
সবুজ মানে শুধু ধানের মাঠ নয়,
সবুজ মানে সত্যের পথে থাকা।
আজ বিজয়ের দিনে আমরা শপথ করি—
দেশকে ভালোবাসব কাজের ভাষায়,
অন্যায়-অসত্য-বিদ্বেষের বিরুদ্ধে
প্রতিদিন জিতব ছোট ছোট কৌশলায়।
কারণ বিজয় একদিনের উৎসব নয়,
বিজয় প্রতিদিনের দায়িত্বের নাম;
যে দেশ রক্তে স্বাধীন হয়েছে,
তাকে ভালো রাখাই আমাদের কাজ, আমাদের দাম।
শুভ বিজয় দিবস। 🇧🇩
বিজয় দিবসের ছবি ২০২৫
১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস বক্তব্য
প্রিয় শিক্ষকবৃন্দ/অতিথিবৃন্দ, সম্মানিত অভিভাবক, আমার প্রিয় সহপাঠী/বন্ধুগণ, এবং উপস্থিত সকল শ্রোতা—
আসসালামু আলাইকুম/সুপ্রভাত।
আজ আমরা দাঁড়িয়ে আছি বাঙালি জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় ও আবেগঘন দিন—১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে। এই দিন বাংলাদেশের মানচিত্র রক্তে লেখা এক দীপ্তিমান সত্যের নাম, আত্মত্যাগে ভেজা এক মহান উপলব্ধির নাম, মুক্তির সুবাসে ভরা এক চূড়ান্ত অর্জনের নাম। আজকের এই দিনে আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি সেই কোটি মানুষের স্বপ্নকে, যাদের অশ্রু, কান্না, লড়াই ও জীবনদানের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
বিজয় দিবস কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
বিজয় দিবস শুধু একটি তারিখ নয়—এটি আমাদের জাতীয় সত্তার পুনর্জন্মের দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল। ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে জন্ম নিয়েছিল নতুন এক রাষ্ট্র—বাংলাদেশ। এই বিজয় ছিল শুধু সামরিক জয় নয়; এটি ছিল অন্যায়ের ওপর ন্যায়ের, শোষণের ওপর মুক্তির, অন্ধকারের ওপর আলোর বিজয়।
মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি ও সংগ্রাম
আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্ন একদিনে জন্ম নেয়নি। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর থেকে বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক অধিকার বারবার পদদলিত হয়েছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ৭০’র নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়—সবই ছিল স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে যাওয়া পদক্ষেপ। এরপর ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ঐতিহাসিক আহ্বান জানিয়েছিলেন—
“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”—
এই আহ্বানই পুরো জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার সাহস দিয়েছিল।
২৫শে মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নৃশংস হামলা শুরু হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ, পিলখানা—সহ নানা স্থানে নির্বিচারে হত্যা চালানো হয়। সেই রাত ছিল বাঙালির জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর রাত। কিন্তু সেই অন্ধকার রাতের বুকে জ্বলে উঠেছিল প্রতিরোধের আগুন। ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, চিকিৎসক, নারী-পুরুষ—সবাই একসাথে দাঁড়িয়েছিল স্বাধীনতার পক্ষে।
শহীদদের রক্ত ও নারীদের ত্যাগ
এই বিজয় এসেছে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে। এসেছে দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম হারানোর আর্তনাদ পেরিয়ে। এসেছে এক কোটির বেশি মানুষের শরণার্থী জীবনের কষ্ট সয়ে। যারা অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন, যারা তথ্য দিয়ে, চিকিৎসা দিয়ে, খাবার দিয়ে, আশ্রয় দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেছেন—সবার সম্মিলিত ত্যাগেই আমাদের এই স্বাধীনতা।
সেইসব শহীদদের নাম হয়তো আমরা সবাই জানি না, কিন্তু তাদের আত্মত্যাগই আমাদের প্রতিটি নিঃশ্বাসের ভিত্তি। শহীদদের প্রতি আমাদের দায় শুধু শোক প্রকাশে সীমাবদ্ধ নয়—তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার মাধ্যমে আমরা প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে পারি।
বিজয়ের অর্থ ও দায়িত্ব
প্রিয় উপস্থিতজন, বিজয় মানে কেবল পতাকা উড়ানো বা র্যালি করা নয়। বিজয় মানে নিজের দেশের প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করা। স্বাধীনতা মানে শুধু কথা বলার অধিকার নয়; এটি হলো সত্য বলার সাহস, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি, এবং মানুষের পাশে থাকার মানসিকতা।
আজকের বাংলাদেশ দারিদ্র্য, অশিক্ষা, দুর্নীতি, সাম্প্রদায়িকতা, মাদক, বেকারত্ব—এমন অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের শিখিয়েছে ঐক্যবদ্ধ হলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। তাই আমাদের দায়িত্ব হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে জীবন্ত রাখা এবং দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করা।
নতুন প্রজন্মের কাছে আহ্বান
আমরা যারা নতুন প্রজন্ম, আমাদের কাঁধেই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের দায়িত্ব। আমরা যদি ইতিহাস না জানি, তবে স্বাধীনতার মূল্য বুঝতে পারব না। ইতিহাস জানা মানে অতীতে আটকে থাকা নয়; ইতিহাস জানা মানে ভবিষ্যৎকে সঠিক পথে এগোনোর শক্তি অর্জন করা।
আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত—
- সৎ ও মানবিক মানুষ হওয়া
- শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ হয়ে উঠা
- ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে সকলের প্রতি সম্মান দেখানো
- দেশের আইন মেনে চলা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা
- দেশকে ভালোবাসা—শুধু আবেগে নয়, কাজে
বাংলাদেশকে আমরা এমন একটি দেশে পরিণত করতে চাই যেখানে ন্যায়, মানবতা, উন্নয়ন ও শান্তি থাকবে; যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না; যেখানে সবাই নিরাপদ ও সম্মানিত জীবন পাবে। এটাই ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন—এটাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।
শেষকথা
আজকের এই মহান দিনে আমরা আবারও শ্রদ্ধা জানাই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, তাঁর নেতৃত্বকে; শ্রদ্ধা জানাই চার জাতীয় নেতাকে; শ্রদ্ধা জানাই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের; এবং গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি সকল শহীদ ও নির্যাতিত মা-বোনদের।
আসুন আমরা শপথ করি—
আমরা স্বাধীনতার চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করব, দেশকে ভালোবাসব, দেশের জন্য কাজ করব, এবং এমন বাংলাদেশ গড়ব যেখানে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।
সবাইকে বিজয় দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা।
উপসংহার
বিজয় দিবস আমাদের জন্য একদিকে আনন্দ ও গর্বের, অন্যদিকে দায়িত্ব ও অঙ্গীকারের স্মারক। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে আমরা আসলে নতুন করে প্রতিজ্ঞা করি—বাংলাদেশকে ভালোবাসব কাজে, সততায় ও মানবিকতায়। শহীদদের রক্ত ও মায়েদের অশ্রু দিয়ে কেনা এই স্বাধীনতাকে সম্মান করতে হলে প্রতিদিন দেশ গড়ার কাজে সৎভাবে এগিয়ে যেতে হবে। জাতীয় ঐক্য, ন্যায়বোধ ও দেশপ্রেমকে শক্ত করে ধরলেই বিজয়ের আসল অর্থ পূর্ণতা পায়।
তাই বিজয়ের এই মহান দিনে সবার জীবনে শান্তি, সম্মান ও সমৃদ্ধি কামনা করি। লাল-সবুজের গৌরব অটুট থাকুক, বাংলাদেশ এগিয়ে যাক আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে—শুভ বিজয় দিবস। 🇧🇩



