হনুমান চালিশা বাংলা অর্থসহ | Hanuman Chalisa Bengali

By Ayan

Updated on:

হনুমান চালীসা হলো গোস্বামী তুলসীদাস রচিত এক অত্যন্ত জনপ্রিয় স্তোত্র। ভক্তদের বিশ্বাস অনুযায়ী নিয়মিত হনুমান চালীসা পাঠ করলে সাহস, মানসিক শক্তি, সংকট মোকাবিলার প্রেরণা এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়।

এই পাতায় আপনি পাবেন—হনুমান চালীসা সম্পূর্ণ বাংলা টেক্সট, সহজ বাংলা অর্থ, উচ্চারণ গাইড, পাঠ করার নিয়ম, উপকারিতা, এবং সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও তার উত্তর।

হনুমান চালীসা – দোহা

শ্রী গুরু চরণ সরোজ রজ নিজমন মুকুর সুধারি ।
বরণৌ রঘুবর বিমলযশ জো দাযক ফলচারি ॥

বুদ্ধিহীন তনুজানিকৈ সুমিরৌ পবন কুমার ।
বল বুদ্ধি বিদ্য়া দেহু মোহি হরহু কলেশ বিকার ॥


ধ্যানম্

অতুলিত বলধামং স্বর্ণ শৈলাভ দেহম্ ।
দনুজ বন কৃশানুং জ্ঞানিনা মগ্রগণ্যম্ ॥

সকল গুণ নিধানং বানরাণা মধীশম্ ।
রঘুপতি প্রিয় ভক্তং বাতজাতং নমামি ॥

গোষ্পদীকৃত বারাশিং মশকীকৃত রাক্ষসম্ ।
রামাযণ মহামালা রত্নং বংদে-(অ)নিলাত্মজম্ ॥

যত্র যত্র রঘুনাথ কীর্তনং তত্র তত্র কৃতমস্তকাংজলিম্ ।
ভাষ্পবারি পরিপূর্ণ লোচনং মারুতিং নমত রাক্ষসাংতকম্ ॥

মনোজবং মারুত তুল্যবেগম্ ।
জিতেংদ্রিয়ং বুদ্ধি মতাং বরিষ্টম্ ॥
বাতাত্মজং বানরয়ূথ মুখ্যম্ ।
শ্রী রাম দূতং শিরসা নমামি ॥


চৌপাঈ (সম্পূর্ণ হনুমান চালীসা)

জয় হনুমান জ্ঞান গুণ সাগর ।
জয় কপীশ তিহু লোক উজাগর ॥ 1 ॥

রামদূত অতুলিত বলধামা ।
অংজনি পুত্র পবনসুত নামা ॥ 2 ॥

মহাবীর বিক্রম বজরংগী ।
কুমতি নিবার সুমতি কে সংগী ॥ 3 ॥

কংচন বরণ বিরাজ সুবেশা ।
কানন কুংডল কুংচিত কেশা ॥ 4 ॥

হাথবজ্র ঔ ধ্বজা বিরাজৈ ।
কাংথে মূংজ জনেবূ সাজৈ ॥ 5 ॥

শংকর সুবন কেসরী নংদন ।
তেজ প্রতাপ মহাজগ বংদন ॥ 6 ॥

বিদ্য়াবান গুণী অতি চাতুর ।
রাম কাজ করিবে কো আতুর ॥ 7 ॥

প্রভু চরিত্র সুনিবে কো রসিয়া ।
রামলখন সীতা মন বসিয়া ॥ 8 ॥

সূক্ষ্ম রূপধরি সিযহি দিখাবা ।
বিকট রূপধরি লংক জলাবা ॥ 9 ॥

ভীম রূপধরি অসুর সংহারে ।
রামচংদ্র কে কাজ সংবারে ॥ 10 ॥

লায় সংজীবন লখন জিয়ায়ে ।
শ্রী রঘুবীর হরষি উরলায়ে ॥ 11 ॥

রঘুপতি কীন্হী বহুত বডায়ী ।
তুম মম প্রিয় ভরত সম ভায়ী ॥ 12 ॥

সহস্র বদন তুম্হরো যশগাবৈ ।
অস কহি শ্রীপতি কংঠ লগাবৈ ॥ 13 ॥

সনকাদিক ব্রহ্মাদি মুনীশা ।
নারদ শারদ সহিত অহীশা ॥ 14 ॥

যম কুবের দিগপাল জহাং তে ।
কবি কোবিদ কহি সকে কহাং তে ॥ 15 ॥

তুম উপকার সুগ্রীবহি কীন্হা ।
রাম মিলায় রাজপদ দীন্হা ॥ 16 ॥

তুম্হরো মংত্র বিভীষণ মানা ।
লংকেশ্বর ভয়ে সব জগ জানা ॥ 17 ॥

যুগ সহস্র যোজন পর ভানূ ।
লীল্য়ো তাহি মধুর ফল জানূ ॥ 18 ॥

প্রভু মুদ্রিকা মেলি মুখ মাহী ।
জলধি লাংঘি গয়ে অচরজ নাহী ॥ 19 ॥

দুর্গম কাজ জগত কে জেতে ।
সুগম অনুগ্রহ তুম্হরে তেতে ॥ 20 ॥

রাম দুআরে তুম রখবারে ।
হোত ন আজ্ঞা বিনু পৈসারে ॥ 21 ॥

সব সুখ লহৈ তুম্হারী শরণা ।
তুম রক্ষক কাহূ কো ডর না ॥ 22 ॥

আপন তেজ সম্হারো আপৈ ।
তীনোং লোক হাংক তে কাংপৈ ॥ 23 ॥

ভূত পিশাচ নিকট নহি আবৈ ।
মহবীর জব নাম সুনাবৈ ॥ 24 ॥

নাসৈ রোগ হরৈ সব পীরা ।
জপত নিরংতর হনুমত বীরা ॥ 25 ॥

সংকট সে হনুমান ছুডাবৈ ।
মন ক্রম বচন ধ্য়ান জো লাবৈ ॥ 26 ॥

সব পর রাম তপস্বী রাজা ।
তিনকে কাজ সকল তুম সাজা ॥ 27 ॥

ঔর মনোরথ জো কোয়ি লাবৈ ।
তাসু অমিত জীবন ফল পাবৈ ॥ 28 ॥

চারো যুগ প্রতাপ তুম্হারা ।
হৈ প্রসিদ্ধ জগত উজিয়ারা ॥ 29 ॥

সাধু সংত কে তুম রখবারে ।
অসুর নিকংদন রাম দুলারে ॥ 30 ॥

অষ্ঠসিদ্ধি নব নিধি কে দাতা ।
অস বর দীন্হ জানকী মাতা ॥ 31 ॥

রাম রসাযন তুম্হারে পাসা ।
সদা রহো রঘুপতি কে দাসা ॥ 32 ॥

তুম্হরে ভজন রামকো পাবৈ ।
জন্ম জন্ম কে দুখ বিসরাবৈ ॥ 33 ॥

অংত কাল রঘুপতি পুরজায়ী ।
জহাং জন্ম হরিভক্ত কহায়ী ॥ 34 ॥

ঔর দেবতা চিত্ত ন ধরয়ী ।
হনুমত সেয়ি সর্ব সুখ করয়ী ॥ 35 ॥

সংকট ক(হ)টৈ মিটৈ সব পীরা ।
জো সুমিরৈ হনুমত বল বীরা ॥ 36 ॥

জৈ জৈ জৈ হনুমান গোসায়ী ।
কৃপা করহু গুরুদেব কী নায়ী ॥ 37 ॥

যহ শত বার পাঠ কর কোয়ী ।
ছূটহি বংদি মহা সুখ হোয়ী ॥ 38 ॥

জো যহ পডে হনুমান চালীসা ।
হোয় সিদ্ধি সাখী গৌরীশা ॥ 39 ॥

তুলসীদাস সদা হরি চেরা ।
কীজৈ নাথ হৃদয় মহ ডেরা ॥ 40 ॥


শেষ দোহা

পবন তনয় সংকট হরণ – মংগল মূরতি রূপ্ ।
রাম লখন সীতা সহিত – হৃদয় বসহু সুরভূপ্ ॥

সিয়াবর রামচংদ্রকী জয় ।
পবনসুত হনুমানকী জয় ।
বোলো ভায়ী সব সংতনকী জয় ।

হনুমান চালিশা – বাংলা অর্থসহ (সহজ ব্যাখ্যা)

অনেকেই শুধু পাঠ করেন, কিন্তু অর্থ না বুঝলে মনোযোগ কমে যায়। তাই এখানে আমি সহজ ভাষায় মূল ভাব দিলাম:

দোহা – বাংলা অর্থ

শ্রী গুরু চরণ সরোজ রজ নিজমন মুকুর সুধারি ।
👉 গুরুর চরণকমলের ধুলো নিয়ে আমি নিজের মন-আয়না পরিষ্কার করছি।

বরণৌ রঘুবর বিমলযশ জো দাযক ফলচারি ॥
👉 তারপর আমি রঘুবীর শ্রী রামের নির্মল যশগান করছি—যা চার ফল (ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ) প্রদান করে।

বুদ্ধিহীন তনুজানিকৈ সুমিরৌ পবন কুমার ।
👉 আমি নিজেকে বুদ্ধিহীন জেনে পবনপুত্র হনুমানকে স্মরণ করছি।

বল বুদ্ধি বিদ্য়া দেহু মোহি হরহু কলেশ বিকার ॥
👉 হে হনুমান! আমাকে শক্তি, বুদ্ধি ও বিদ্যা দিন এবং আমার কষ্ট-দুঃখ-দোষ দূর করুন।


ধ্যানম্ – বাংলা অর্থ

অতুলিত বলধামং স্বর্ণ শৈলাভ দেহম্ ।
👉 তিনি অতুল শক্তির আধার এবং স্বর্ণপর্বতের মতো উজ্জ্বল দেহধারী।

দনুজ বন কৃশানুং জ্ঞানিনা মগ্রগণ্যম্ ॥
👉 অসুরদের জন্য তিনি আগুনের মতো, আর জ্ঞানীদের মধ্যে তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ।

সকল গুণ নিধানং বানরাণা মধীশম্ ।
👉 তিনি সব গুণের ভাণ্ডার এবং বানরদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নেতা।

রঘুপতি প্রিয় ভক্তং বাতজাতং নমামি ॥
👉 রঘুপতি রামের প্রিয় ভক্ত, বায়ুপুত্র হনুমানকে আমি প্রণাম করি।


চৌপাঈ (১–৪০) – Line-by-line বাংলা অর্থ

1

জয় হনুমান জ্ঞান গুণ সাগর ।
👉 হনুমানজীর জয়! তিনি জ্ঞান ও গুণের সাগর।

জয় কপীশ তিহু লোক উজাগর ॥
👉 তিনি বানররাজ; তিন লোক (স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল) জুড়ে তাঁর খ্যাতি।


2

রামদূত অতুলিত বলধামা ।
👉 তিনি শ্রী রামের দূত এবং অসীম শক্তির আধার।

অংজনি পুত্র পবনসুত নামা ॥
👉 তিনি অঞ্জনীর পুত্র, পবনদেবের সন্তান—এটাই তাঁর পরিচয়।


3

মহাবীর বিক্রম বজরংগী ।
👉 তিনি মহাবীর, অত্যন্ত পরাক্রমশালী এবং বজ্রের মতো শক্তিশালী।

কুমতি নিবার সুমতি কে সংগী ॥
👉 তিনি কুমতি (অশুদ্ধ বুদ্ধি) দূর করে সুমতি (সৎবুদ্ধি) দেন।


4

কংচন বরণ বিরাজ সুবেশা ।
👉 তাঁর দেহ স্বর্ণবর্ণ এবং বেশভূষা অপূর্ব।

কানন কুংডল কুংচিত কেশা ॥
👉 তাঁর কানে কুণ্ডল, আর চুল ঘন ও কোঁকড়ানো।


5

হাথবজ্র ঔ ধ্বজা বিরাজৈ ।
👉 তাঁর হাতে বজ্র/গদা ও ধ্বজা শোভা পায়।

কাংথে মূংজ জনেবূ সাজৈ ॥
👉 তাঁর কাঁধে মুঞ্জের জनेऊ (যজ্ঞোপবীত) সুশোভিত।


6

শংকর সুবন কেসরী নংদন ।
👉 তিনি শঙ্করের (শিবের) অংশ; তিনি কেশরী নন্দন।

তেজ প্রতাপ মহাজগ বংদন ॥
👉 তাঁর তেজ ও প্রতাপকে সারা জগত প্রণাম করে।


7

বিদ্য়াবান গুণী অতি চাতুর ।
👉 তিনি বিদ্বান, গুণবান এবং অত্যন্ত বুদ্ধিমান।

রাম কাজ করিবে কো আতুর ॥
👉 শ্রী রামের কাজে সাহায্য করতে তিনি সর্বদা প্রস্তুত থাকেন।


8

প্রভু চরিত্র সুনিবে কো রসিয়া ।
👉 প্রভুর (রামের) মহিমা ও চরিত্র শুনতে তিনি খুবই আনন্দ পান।

রামলখন সীতা মন বসিয়া ॥
👉 তাঁর হৃদয়ে সর্বদা রাম, লক্ষ্মণ ও সীতা বাস করেন।


9

সূক্ষ্ম রূপধরি সিযহি দিখাবা ।
👉 তিনি সূক্ষ্ম রূপ ধারণ করে সীতাকে দেখা দিলেন।

বিকট রূপধরি লংক জলাবা ॥
👉 আবার ভয়ঙ্কর রূপ ধরে লংকা দহন করলেন।


10

ভীম রূপধরি অসুর সংহারে ।
👉 তিনি বিশাল রূপ ধারণ করে অসুরদের ধ্বংস করেন।

রামচংদ্র কে কাজ সংবারে ॥
👉 শ্রী রামচন্দ্রের কাজ সম্পন্ন করেন।


11

লায় সংজীবন লখন জিয়ায়ে ।
👉 তিনি সংজীবনী এনে লক্ষ্মণকে জীবিত করলেন।

শ্রী রঘুবীর হরষি উরলায়ে ॥
👉 এতে শ্রী রাম খুব আনন্দিত হয়ে তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।


12

রঘুপতি কীন্হী বহুত বডায়ী ।
👉 রঘুপতি (রাম) হনুমানজীর খুব প্রশংসা করলেন।

তুম মম প্রিয় ভরত সম ভায়ী ॥
👉 বললেন—তুমি আমার প্রিয় ভাই ভরতের মতোই প্রিয়।


13

সহস্র বদন তুম্হরো যশগাবৈ ।
👉 সহস্র মুখও তোমার যশ গাইতে পারে না (অর্থাৎ, যশ অসীম)।

অস কহি শ্রীপতি কংঠ লগাবৈ ॥
👉 এ কথা বলে শ্রী রাম তাঁকে গলায় জড়িয়ে ধরলেন।


14

সনকাদিক ব্রহ্মাদি মুনীশা ।
👉 সনকাদি ঋষি, ব্রহ্মা প্রমুখ দেব-ঋষিরাও—

নারদ শারদ সহিত অহীশা ॥
👉 নারদ, শারদা (সরস্বতী), ও শेषনাগও—

👉 সবাই হনুমানজীর মাহাত্ম্য স্বীকার করেন।


15

যম কুবের দিগপাল জহাং তে ।
👉 যম, কুবের এবং দিকপাল দেবতারা—

কবি কোবিদ কহি সকে কহাং তে ॥
👉 কবি-জ্ঞানীরাও তাঁর গুণের শেষ খুঁজে পান না।


16

তুম উপকার সুগ্রীবহি কীন্হা ।
👉 তুমি সুগ্রীবকে সাহায্য করেছিলে।

রাম মিলায় রাজপদ দীন্হা ॥
👉 শ্রী রামের সঙ্গে মিলিয়ে তাকে রাজ্য দিলেছিলে।


17

তুম্হরো মংত্র বিভীষণ মানা ।
👉 বিভীষণ তোমার উপদেশ গ্রহণ করেছিল।

লংকেশ্বর ভয়ে সব জগ জানা ॥
👉 তাই সে লংকার রাজা হল—এ কথা সবাই জানে।


18

যুগ সহস্র যোজন পর ভানূ ।
👉 সূর্য অনেক দূরে (হাজার যুগ/যোজন দূরে) থাকলেও—

লীল্য়ো তাহি মধুর ফল জানূ ॥
👉 তুমি তাকে মিষ্টি ফল ভেবে গিলে ফেলতে গিয়েছিলে।


19

প্রভু মুদ্রিকা মেলি মুখ মাহী ।
👉 শ্রী রামের আংটি মুখে রেখে—

জলধি লাংঘি গয়ে অচরজ নাহী ॥
👉 সাগর লঙ্ঘন করেছিলে—এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।


20

দুর্গম কাজ জগত কে জেতে ।
👉 পৃথিবীর কঠিন কাজগুলোও—

সুগম অনুগ্রহ তুম্হরে তেতে ॥
👉 তোমার অনুগ্রহে সহজ হয়ে যায়।


21

রাম দুআরে তুম রখবারে ।
👉 শ্রী রামের দ্বারে তুমি প্রহরী/রক্ষক।

হোত ন আজ্ঞা বিনু পৈসারে ॥
👉 তোমার অনুমতি ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারে না।


22

সব সুখ লহৈ তুম্হারী শরণা ।
👉 তোমার আশ্রয়ে গেলে সব সুখ পাওয়া যায়।

তুম রক্ষক কাহূ কো ডর না ॥
👉 তুমি রক্ষক হলে ভয় নেই।


23

আপন তেজ সম্হারো আপৈ ।
👉 তুমি নিজের তেজ নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারো।

তীনোং লোক হাংক তে কাংপৈ ॥
👉 তোমার ডাকেই তিন লোক কাঁপে।


24

ভূত পিশাচ নিকট নহি আবৈ ।
👉 ভূত-প্রেত-পিশাচ কাছে আসে না—

মহবীর জব নাম সুনাবৈ ॥
👉 যখন মহাবীর হনুমানের নাম উচ্চারিত হয়।


25

নাসৈ রোগ হরৈ সব পীরা ।
👉 রোগ ও সব দুঃখ-কষ্ট দূর হয়,

জপত নিরংতর হনুমত বীরা ॥
👉 যখন বীর হনুমানের নাম নিরন্তর জপ করা হয়।


26

সংকট সে হনুমান ছুডাবৈ ।
👉 হনুমান সংকট থেকে উদ্ধার করেন।

মন ক্রম বচন ধ্য়ান জো লাবৈ ॥
👉 যে ব্যক্তি মন-কর্ম-বচনে তাঁকে স্মরণ করে।


27

সব পর রাম তপস্বী রাজা ।
👉 শ্রী রাম তপস্বী ও মহান রাজা।

তিনকে কাজ সকল তুম সাজা ॥
👉 তাঁর সব কাজ তুমি সম্পন্ন করেছ।


28

ঔর মনোরথ জো কোয়ি লাবৈ ।
👉 কেউ যদি কোনো মনোবাসনা নিয়ে তোমার শরণে আসে—

তাসু অমিত জীবন ফল পাবৈ ॥
👉 সে অমিত ফল লাভ করে (ভক্তদের বিশ্বাস অনুযায়ী)।


29

চারো যুগ প্রতাপ তুম্হারা ।
👉 চার যুগ জুড়ে তোমার প্রতাপ বিদ্যমান।

হৈ প্রসিদ্ধ জগত উজিয়ারা ॥
👉 সারা জগতে তোমার খ্যাতি ছড়িয়ে আছে।


30

সাধু সংত কে তুম রখবারে ।
👉 তুমি সাধু-সন্তদের রক্ষক।

অসুর নিকংদন রাম দুলারে ॥
👉 তুমি অসুরনাশক, এবং রামের প্রিয়।


31

অষ্ঠসিদ্ধি নব নিধি কে দাতা ।
👉 তুমি অষ্টসিদ্ধি ও নয় নিধির দাতা।

অস বর দীন্হ জানকী মাতা ॥
👉 জানকী (সীতা) মাতা তোমাকে এই বর দিয়েছেন।


32

রাম রসাযন তুম্হারে পাসা ।
👉 রামের ভক্তির অমৃত তোমার কাছে আছে।

সদা রহো রঘুপতি কে দাসা ॥
👉 তুমি সর্বদা রঘুপতির দাস হয়েই থাকো।


33

তুম্হরে ভজন রামকো পাবৈ ।
👉 তোমার ভজন করলে রামকে পাওয়া যায়।

জন্ম জন্ম কে দুখ বিসরাবৈ ॥
👉 জন্ম-জন্মের দুঃখ দূর হয় (ভক্তদের বিশ্বাস অনুযায়ী)।


34

অংত কাল রঘুপতি পুরজায়ী ।
👉 জীবনের শেষে রঘুপতির ধামে যাওয়া সম্ভব হয়,

জহাং জন্ম হরিভক্ত কহায়ী ॥
👉 অথবা এমন জন্ম হয় যেখানে মানুষ হরিভক্ত নামে পরিচিত হয়।


35

ঔর দেবতা চিত্ত ন ধরয়ী ।
👉 অন্য দেবতায় মন না দিলেও—

হনুমত সেয়ি সর্ব সুখ করয়ী ॥
👉 হনুমানের সেবায় সব সুখ হয় (ভক্তদের বিশ্বাস অনুযায়ী)।


36

সংকট ক(হ)টৈ মিটৈ সব পীরা ।
👉 সংকট কেটে যায়, সব কষ্ট দূর হয়,

জো সুমিরৈ হনুমত বল বীরা ॥
👉 যে বীর হনুমানকে স্মরণ করে।


37

জৈ জৈ জৈ হনুমান গোসায়ী ।
👉 জয় জয় জয়, হে হনুমান গোঁসাই!

কৃপা করহু গুরুদেব কী নায়ী ॥
👉 গুরুর মতো কৃপা করুন।


38

যহ শত বার পাঠ কর কোয়ী ।
👉 যে ব্যক্তি এটি শতবার পাঠ করে,

ছূটহি বংদি মহা সুখ হোয়ী ॥
👉 সে বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে বড় সুখ পায় (ভক্তদের বিশ্বাস অনুযায়ী)।


39

জো যহ পডে হনুমান চালীসা ।
👉 যে হনুমান চালীসা পাঠ করে,

হোয় সিদ্ধি সাখী গৌরীশা ॥
👉 সে সিদ্ধি লাভ করে—এ কথা শিব (গৌরীশ) সাক্ষী।


40

তুলসীদাস সদা হরি চেরা ।
👉 তুলসীদাস বলেন—আমি সর্বদা হরির দাস।

কীজৈ নাথ হৃদয় মহ ডেরা ॥
👉 হে নাথ! আমার হৃদয়ে স্থায়ীভাবে বাস করুন।


শেষ দোহা – বাংলা অর্থ

পবন তনয় সংকট হরণ – মংগল মূরতি রূপ্ ।
👉 পবনপুত্র হনুমান সংকটহরণকারী এবং মঙ্গলময় রূপধারী।

রাম লখন সীতা সহিত – হৃদয় বসহু সুরভূপ্ ॥
👉 আপনি রাম-লক্ষ্মণ-সীতাসহ আমার হৃদয়ে বাস করুন।

আরও পড়ুন: হিন্দু ধর্মের ক্যাপশন

শুদ্ধ উচ্চারণ ও পড়ার টিপস

১) ধীরে পড়ুন—গতি নয়, শুদ্ধতা ও মনোযোগ জরুরি।
২) “ং/ঁ” (অনুস্বার) জায়গায় নাসিক্য ধ্বনি ঠিক রাখুন।
৩) “শ/ষ/স” উচ্চারণে ভুল হয়—সম্ভব হলে একবার অডিও শুনে মিলিয়ে নিন।
৪) অর্থ বুঝে পড়লে পাঠ আরও সুন্দর হয়।


হনুমান চালীসা পাঠ করার নিয়ম

এটা কোনো বাধ্যতামূলক কড়াকড়ি নিয়ম নয়—ভক্তি ও মনোযোগই মূল। তবু সাধারণভাবে:

কখন পড়বেন?

  • ভোরে বা সন্ধ্যায় সময় ভালো
  • মঙ্গলবার ও শনিবার অনেক ভক্ত নিয়মিত পড়েন

কতবার পড়বেন?

  • ১ বার দৈনিক
  • সংকট/বিশেষ দিনে ৩/৭/১১ বার

পড়ার আগে কী করবেন?

  • হাত-মুখ ধুয়ে পরিষ্কার হয়ে বসুন
  • ১ মিনিট চোখ বন্ধ করে মন শান্ত করুন
  • তারপর দোহা থেকে শুরু করুন

পড়ার সময় কী করবেন?

  • মন-কথা-কর্ম—একাগ্র রাখুন
  • মোবাইল সাইলেন্ট রাখুন
  • শেষ দোহা পড়ে প্রার্থনা করুন

হনুমান চালীসা পাঠের উপকারিতা (ভক্তদের বিশ্বাস অনুযায়ী)

  • ভয় কমে, সাহস বাড়ে
  • মন শান্ত হয়, আত্মবিশ্বাস বাড়ে
  • কঠিন সময়ে ধৈর্য আসে
  • নিয়মিত পাঠ করলে নেতিবাচক চিন্তা কমে এবং মন স্থির থাকে
  • ভক্তদের বিশ্বাস অনুযায়ী বিপদ-সংকট কাটে

হনুমান চালীসা অডিও/ভিডিও


FAQ – মানুষ সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নগুলো করে

হনুমান চালীসা কি প্রতিদিন পড়া যায়?

হ্যাঁ, ভক্তদের মধ্যে প্রতিদিন পড়ার প্রচলন আছে। নিয়মিত পাঠে মনোযোগ ও ভক্তি বাড়ে।

মঙ্গলবার/শনিবার কেন পড়া হয়?

ভক্তদের বিশ্বাস অনুযায়ী এই দিনগুলো হনুমানজীর পূজার জন্য বিশেষ। তাই অনেকেই এই দিনে নিয়মিত পাঠ করেন।

কতবার পড়লে ভালো?

সাধারণভাবে ১ বার যথেষ্ট। বিশেষ সংকট বা মানসিক অস্থিরতায় ৩/৭ বার পড়া অনেকেই করেন।

রাতের বেলা পড়া যাবে?

হ্যাঁ, পড়া যায়। মূল হলো—শুদ্ধতা, মনোযোগ ও ভক্তি।

শিশুদের পড়ানো যাবে?

অবশ্যই। ছোটদের ধীরে ধীরে শুদ্ধ উচ্চারণে পড়াতে পারলে ভালো।

PDF/ডাউনলোড ও কপি-টেক্সট

✅ আপনি চাইলে এই পেজের টেক্সট কপি করে রাখতে পারেন।


শেষ কথা

হনুমান চালীসা শুধু একটি পাঠ নয়—এটা ভক্তি, সাহস এবং সংকট মোকাবিলার প্রেরণার উৎস। নিয়মিত পাঠ করলে মন শান্ত থাকে, ভীতির জায়গায় আত্মবিশ্বাস আসে—এটাই ভক্তদের অভিজ্ঞতা।

সিয়াবর রামচন্দ্রকী জয়।
পবনসুত হনুমানকী জয়।

Ayan

আয়ান, বাংলা ভাষার প্রেমে পড়া একজন সৃজনশীল লেখক, যিনি মনোমুগ্ধকর ক্যাপশন, স্ট্যাটাস ও উক্তি লিখে পাঠকদের মন জয় করেন। শব্দের মাধ্যমে আবেগ প্রকাশ করাই তাঁর অন্যতম নেশা। ভালোবাসা, অনুপ্রেরণা, বন্ধুত্ব, হাসি-মজা—সব ধরনের ক্যাপশন লেখার ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা অসাধারণ। পছন্দের বিষয়: ক্যাপশন রচনা, সাহিত্য, উক্তি ও জীবন দর্শন।

Leave a Comment