১৪০+ প্রবাস জীবন নিয়ে স্ট্যাটাস: প্রবাসীদের কষ্টের স্ট্যাটাস ২০২৬

By Ayan

Updated on:

প্রবাস জীবন নিয়ে স্ট্যাটাস পিক

প্রবাস জীবন মানে শুধু বিদেশে টাকা উপার্জনের নাম নয়, এটা একরাশ না বলা কষ্ট, পরিবার থেকে দূরে থাকা, দেশের মাটির গন্ধ মিস করা, এবং প্রতিদিন নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করার আরেক নাম। যারা “প্রবাস জীবন নিয়ে স্ট্যাটাস” খুঁজছেন, তাদের জন্য নিচে তুলে ধরা হলো হৃদয়ছোঁয়া বাস্তবধর্মী কিছু স্ট্যাটাস, যা ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা ইনস্টাগ্রাম-এ ব্যবহার করার মতো একেবারে উপযুক্ত।

প্রবাস জীবন নিয়ে স্ট্যাটাস

🛫 “বিদেশে যাওয়া মানেই সাফল্য না, অনেক সময় সেটা নীরব চোখের জল আর ভাঙা হাসির গল্প।”

প্রবাসে থাকা মানে — ঘুম ভাঙে কাজের চিন্তায়, আর ঘুম আসে দেশের স্মৃতিতে।

সময়মতো টাকা পাঠাতে পারি, কিন্তু মায়ের মুখে “তুই পাশে থাকলে ভালো হতো” — এই কথার জবাব পাঠানো যায় না।

এই শহরে হাজারো মানুষ, কিন্তু কেউ জিজ্ঞেস করে না, “তোর শরীরটা কেমন আছে?”

💔 “আমার ঘরে ঈদ, অথচ আমি থাকি পরের শহরে – এটাকেই বলে প্রবাস জীবন।”

প্রবাস জীবন এমন এক পাঠশালা, যেখানে বাস্তবতা শেখায় নিঃশব্দে সহ্য করতে।

সবাই বলে “ভালো আছো বিদেশে”, অথচ প্রতিদিন একটু করে ভালো থাকার অভিনয়টা শেখা হয় এখানে।

দেশের ছবি দেখি, উৎসব দেখি, অথচ অংশ নিতে পারি না — এটাই প্রবাসের সবচেয়ে কষ্টের দিক।

প্রবাসে বেঁচে থাকার নাম জীবন, সেখানে ইচ্ছেগুলো শুধু তালিকায় পড়ে থাকে।

আত্মীয়েরা শুধু জানে আমি টাকা পাঠাই, কেউ জানে না — মাঝে মাঝে এক কাপ চায়ের সঙ্গও পাই না।

প্রতিদিন খবর নেই দেশের, অথচ নিজের খবর দেয়ার মতো একজন আপন মানুষও নেই এখানে।

📞 “মোবাইলে কথা হয়, হাসিও হয়… কিন্তু বুকের ভেতরের অভিমানগুলো কেউ দেখতে পায় না।”

প্রবাস জীবন নিয়ে স্ট্যাটাস পিক আবেগময়

🌏 “সবার চোখে আমি সফল প্রবাসী, কিন্তু নিজের চোখে আমি এখনো মায়ের কোলে ফেরা একটা শিশু।”

🌃 “প্রতিদিন সকালে ঘুম ভাঙে একটা নতুন যুদ্ধ নিয়ে – কারণ প্রবাসে কেউ বলে না ‘আজ আর না গেলে চলবে’।”

🏠 “দেশে ফিরতে মন চায়, কিন্তু সংসারের হিসেব মেলাতে গিয়ে মনকে থামিয়ে রাখি।”

📦 “টাকা পাঠাই ঠিকই, কিন্তু কেউ বোঝে না – কষ্ট দিয়ে সেই টাকা আসে।”

💭 “রুমের চার দেয়াল জানে, আমি কীভাবে রাতগুলো কাঁদতে কাঁদতে কাটাই।”

🌪️ “প্রবাসে বৃষ্টি এলে শুধু জানালায় ভেজে না – বুকেও জমে থাকে কষ্টের স্রোত।”

😶 “সবাই ভাবে বিদেশ মানেই সুখ – অথচ আমি প্রতিদিন নিজের মনকে বোঝাই, ‘সব ঠিক আছে’।”

🕯️ “প্রিয়জনের মৃত্যুর খবরটাও ফোনে পাই, কিন্তু পাশে থাকতে পারি না – এটাকেই বলে বাস্তব প্রবাস জীবন।”

📸 “ছবিতে হাসি দেই ঠিকই, কিন্তু কেউ জানে না সেই হাসির পেছনে কতটা চাপা কান্না আছে।”

💔 “বাড়ির শিশুটার প্রথম হাঁটা, প্রথম কথা – সব কিছুই মিস করি শুধু টাকার জন্য।”

🤍 “এই দূরত্ব শুধু কিলোমিটারে নয়, এটা আবেগ, সম্পর্ক আর সময়ের মধ্যেও ফারাক তৈরি করে।”

🕰️ “সময়টা চলে যায়, মানুষটাও বদলে যায়, শুধু প্রবাসীর অপেক্ষাটা থেকেই যায় আগের মতোই।”

😢 “মায়ের হাতের রান্না মিস করি, বাবার সান্নিধ্য মিস করি… প্রবাস মানে প্রতিদিন কিছু হারানোর গল্প।”

💼 “ছুটি পেলে নিজের বাড়ি ফিরি, বাকি দিনগুলো শুধু একটা ভিনদেশি স্বপ্নের পেছনে দৌড়াই।”

🏠 “ভবনের রঙ, গাড়ির দাম – এগুলোর পেছনে লুকানো থাকে একজন প্রবাসীর না বলা হাজারটা রাতের কষ্ট।”

🌃 “রাত যত গভীর হয়, ততই বাড়ে প্রিয়জনদের স্মৃতি – প্রবাসে একাকীত্ব খুব চেপে ধরে।”

🤲 “বিদেশে টাকা আসে ঠিকই, কিন্তু শান্তি আর শান্তির মানুষগুলো দেশের মাটিতেই রয়ে যায়।”

পুরুষের দায়িত্ব নিয়ে উক্তি

প্রবাসীদের কষ্টের স্ট্যাটাস

প্রবাস জীবন বাইরে থেকে যতটা রঙিন মনে হয়, ভিতরে ততটাই কষ্টের। প্রতিদিন পরিবার থেকে দূরে থাকা, নিজের ভাষা, সংস্কৃতি আর প্রিয় মুখগুলোর অভাব – এই সবকিছু মিলেই তৈরি হয় এক নিঃশব্দ সংগ্রাম। যারা “প্রবাসীদের কষ্টের স্ট্যাটাস” খুঁজছেন, তাদের জন্য নিচে কিছু বাস্তব, আবেগময় স্ট্যাটাস তুলে ধরা হলো যা সরাসরি মন ছুঁয়ে যাবে।

🏠 “নিজের ঘর ছেড়ে অন্যের দেশে বাস… এটা স্বপ্ন নয়, এটা টিকে থাকার সংগ্রাম।”

📞 “মা শুধু জিজ্ঞেস করে, ‘ভাল আছিস তো?’ – আর আমি হেসে বলি, ‘হ্যাঁ মা’, কান্না লুকিয়ে।”

দেশের মানুষ ভাবে আমরা স্বপ্ন পূরণ করতে বিদেশ যাই — অথচ আমরা প্রতিদিন একটু করে ‘আমি’কে বিসর্জন দিই, শুধু দায়িত্বে বাঁচি।

প্রবাসে ঈদের চাঁদ দেখা মানে দেশের রাতের আকাশ কল্পনায় টেনে আনা… আর মনে মনে বলতে থাকা — “আল্লাহ, এবার একবার ছুটি দিও।”

অনেকে বলে — “ভাই তো বিদেশে, নিশ্চয়ই ভালো আছে!” অথচ ভাইটা তিন মাস ধরে নতুন জামা কেনেনি, কারণ বাড়িতে মেয়ের স্কুল ফি বাকি।

অফিস শেষে এখানে কেউ বলে না — “চল, একটু হাঁটি”, শুধু দেয়াল আর নিঃশব্দ রাত সঙ্গ দেয়… এটাও একটা অভ্যস্ততা হয়ে গেছে।

😶 “প্রতিদিন নিজের কষ্টগুলো গিলে ফেলি – কারণ এখানে কেউ জিজ্ঞেস করে না, ‘কেমন আছো?'”

🕯️ “দেশে সবাই ভাবে আমি সুখে আছি, কিন্তু কষ্টগুলো তো ফোনের এ পাশ থেকে দেখা যায় না।”

🧳 “ভিনদেশে টাকা পাই, কিন্তু শান্তি হারিয়ে ফেলেছি অনেক আগেই।”

দেশে কেউ অসুস্থ হলে আমি শুধু ফোনটা শক্ত করে ধরি, পাশে থাকতে না পারার অপরাধবোধটাই গলায় ঝুলে থাকে।

বিদেশি কারেন্সিতে হিসেব করে কারো মন বোঝা যায় না, যেখানে এক কাপ চায়ের মতো একটু ভালোবাসাও দাম দিয়ে পাওয়া যায় না।

প্রবাসীদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা — চোখের পানি লুকিয়ে হাসতে পারা, যেন সব ঠিক আছে — এই নাটকটাই বেশি আয় করে।

প্রবাসী কষ্টটা বোঝে না কেউ, কারণ আমরা পোস্ট দেই হাসিমুখে, ভিতরের কান্নাগুলো ক্যাপশনে আসে না।

💔 “মা যখন অসুস্থ হয়, তখন শুধু ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে কাঁদি – কিছুই করতে পারি না।”

🥀 “আয়না দেখে হাসি শেখি, যেন কেউ বুঝতে না পারে ভিতরে আমি কতটা একা।”

🌙 “রাতে বিছানায় শুয়ে চোখ বন্ধ করলেই দেশের মুখগুলো ভেসে ওঠে – ঘুম আসে না।”

😢 “ঈদের দিনটাও এখানে শুধুই একটা সাধারণ দিন – প্রবাসীরা হাসে, কিন্তু মন কাঁদে।”

🤲 “ভবিষ্যতের জন্য আজকে নিজের সবকিছু বিসর্জন দিচ্ছি – এটাও এক ধরণের কষ্টের ইবাদত।”

🖤 “প্রতিদিন কারো হাসির কারণ হই, অথচ নিজের কান্না কেউ টের পায় না – এটাই প্রবাসীর জীবন।”

🕰️ “সকাল হয় কাজের ভয়ে, রাত নামে নিঃসঙ্গতার ভয়ে – এই দুইয়ের মাঝেই আমি প্রবাসী।”

🛏️ “রুমের একাকীত্ব, দেয়ালের নীরবতা আর মায়ের মুখ – তিনটাই একসাথে কষ্ট দেয় এখানে।”

📦 “টাকার ব্যাগ ভর্তি, কিন্তু বুকটা খালি খালি লাগে – কারণ মায়ের কোলে শুয়ে থাকা যায় না।”

💬 “বন্ধুরা বলে, ‘তুই তো প্রবাসে, মজা করে থাকিস’ – আর আমি ফোন কেটে, চুপ করে চোখ মোছি।”

🧳 “প্রতিটা প্রবাসীর স্যুটকেসে থাকে জামা কাপড়ের চেয়ে বেশি – কিছু না বলা দুঃখ, কিছু মুছে ফেলা স্বপ্ন।”

🌧️ “এখানকার বৃষ্টি আমার দেশ ছুঁতে পারে না, কেবল মনটাকেই আরও ভিজিয়ে দেয়।”

😓 “বাবা-মা বুড়িয়ে যায় ভিডিও কলে, আর আমি শুধু দেখি… ফিরে যেতে পারি না।”

🕊️ “দেশের একটা চা দোকানের আড্ডা… প্রবাসের দামি রেস্তোরাঁকেও হার মানায়।”

✈️ “প্রতি ছুটিতে বাড়ি ফিরি মানুষ হয়ে, আবার চলে আসি রোবট হয়ে – চালাতে হয় জীবন নামের মেশিন।”

বাস্তবতা নিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস ২০২৫

প্রবাস জীবন নিয়ে উক্তি

নিচে দেওয়া হলো হৃদয়ছোঁয়া ও বাস্তবভিত্তিক প্রবাস জীবন নিয়ে কিছু বাংলা উক্তি, যেখানে উঠে এসেছে বিদেশে থাকা মানুষের একাকীত্ব, সংগ্রাম, কষ্ট ও পরিবারের জন্য ভালোবাসা। এই উক্তিগুলো প্রবাসী জীবনযাত্রার বাস্তবতা ও আবেগের প্রতিচ্ছবি।

“ভবিষ্যতের আশায় যারা প্রবাসে যায়, তাদের অতীত আর বর্তমান সবটাই স্মৃতির নদীতে ভেসে যায়।”— আনিসুল হক

“দেশ ছেড়ে এলেও দেশের স্মৃতি কখনো পিছু ছাড়ে না। তা হৃদয়ে শিকড় গেড়ে বসে থাকে।”— তসলিমা নাসরিন

প্রবাসে মানুষ শুধু টাকা কামায় না, প্রতিদিন একটু করে নিজেকে হারায়।

দেশের বাইরে যাওয়ার দিনটা আনন্দের, আর ফিরে আসার চিন্তা হয় ক্যালেন্ডারের এক পরিত্যক্ত পাতায়।

নিজের ভাষায় কিছু বলার অধিকার থাকলেও প্রবাসে বোঝানোর দায়টা থাকে চেহারার অভিব্যক্তিতে।

যাত্রাটা ছিল স্বপ্নপূরণের, অথচ মাঝপথে আবিষ্কার করি — আমি তো স্বপ্নের নয়, প্রয়োজনের মানুষ হয়েছি।

প্রবাসী জীবন মানেই প্রতিদিন নিজেকে বোঝানো, ‘ভালো আছি’, যদিও আয়নার বিপরীতে দাঁড়ালে মন তা মানে না।

দূর দেশে সূর্য ওঠে সময়মতো, কিন্তু বুকের ভেতর সন্ধ্যা নেমে আসে অকারণেই।

টাকা পাঠানো যায় ঠিক সময়ে, কিন্তু মায়ের হাতের রান্নার স্বাদ ফিরিয়ে আনা যায় না কোনো রেমিটেন্সে।

প্রবাসী হওয়ার মানে শুধু দেশ ছাড়া নয়, মানুষ ছাড়া একটা জীবনের সাথে আপোস।

এখানে ঠিকানা থাকলেও আপন মানুষ বলতে ফোনের ওপাশের কিছু শব্দ আর থেমে থাকা নিঃশ্বাস।

প্রবাসী কষ্ট সবচেয়ে নিঃশব্দ — কেউ জানতে চায় না, শুধু জিজ্ঞেস করে, “কত রোজগার হচ্ছে?”

“বিদেশে থাকার কষ্ট কেবল তারাই বোঝে, যারা রাত শেষে মা’র কণ্ঠ শুনতে না পেয়ে কান্না চেপে রাখে।”— অজ্ঞাত

“পাসপোর্ট বদলালেও জাতির মন বদলায় না—ভালোবাসা থাকে সেই পুরোনো পাড়ায়, পুরোনো মাটিতে।”— সেলিনা হোসেন

“প্রবাস জীবন হলো এক অবিরাম যুদ্ধ—পরিবারকে ভালো রাখতে নিজের ভালোবাসাকে বিসর্জন দেওয়া জীবন।”— মোহাম্মদ রফিক (কবি)

“বিদেশের আলো ঝলমলে জীবন মানে শুধু টাকা নয়, মানে অনেক রাতের নিঃশব্দ কান্না।”— হুমায়ূন আহমেদ

“প্রবাসে টাকা বাড়ে, সময় হারায়, সম্পর্ক ঝরে পড়ে, আর হৃদয়ের ক্লান্তি জমে।”— অজ্ঞাত

“মা-বাবার হাতের রান্না মিস করার নামই প্রবাস।”— অজ্ঞাত

“প্রবাসীর হাসির পেছনে লুকিয়ে থাকে হাজারো দিনরাতের পরিশ্রম আর আত্মনিয়ন্ত্রণ।”— অজ্ঞাত

“ভালো থাকার অভিনয়টা প্রবাসীরা সবচেয়ে ভালো জানে।”— অজ্ঞাত

“টাকার পাহাড় গড়েও প্রবাসীরা মায়ের হাসির মতো একটুখানি শান্তি খুঁজে পায় না।”— মোহাম্মদ রফিক (কবি)

“দেশে থাকা সন্তান যখন বাবাকে ‘আনলিমিটেড রিচার্জ’ চায়, প্রবাসী বাবা তখন নিজের ফোন রিচার্জ না করেই পাঠিয়ে দেয় টাকা।”— অজ্ঞাত

“নিজের সংস্কৃতিকে লালন করতে করতে, প্রবাসীরা প্রতিদিন এক নতুন সংস্কৃতির সঙ্গে যুদ্ধ করে।”— তারেক মাসুদ

“প্রবাসের কষ্ট বোঝে না কেউ, বোঝে কেবল সেই মানুষটা যার মুখে হাসি কিন্তু চোখে ঘুম নেই।”— অজ্ঞাত

“তারা বিদেশে যায় সুখ খুঁজতে, কিন্তু সুখ থেকে সবচেয়ে দূরে থাকে তারাই।”— মুনির চৌধুরী

“প্রবাসে সবচেয়ে বড় যুদ্ধ হয় নিজেকেই চেনার—আমি কে, আমি কেন এখানে?”— অরুন্ধতী রায় (অনুপ্রেরণামূলক ভাবানুবাদ)

“প্রবাস মানে নয় উৎসবের দিন আনন্দ, বরং দেশের কোলাহলহীন একটা দীর্ঘশ্বাস।”— অজ্ঞাত

পুরুষ মানুষের জীবন নিয়ে উক্তি

প্রবাসী কষ্টের ছন্দ

দূর দেশে ঠাণ্ডা হাওয়ায় ভিজে চোখের পানি,
কারো খোঁজ নেয় না, সময় বড়ই অমানবিক জানি।
ফোনের ওপারে মা, বলে খালি — “ভালো থাকিস,”
বুকের ভিতর কান্না, মুখে হাসি আঁকি নিঃসন্দেহ।


ঈদের দিনেও ঘরে ফিরি না, বুকে জ্বলে আগুন,
ছবি দেখি ভাইবোনের, হাসির মাঝে লাগি ধোঁউন।
লাঞ্চ ব্রেকেও ভাবি, আজ মা কী রান্না করলো,
মেসের ঝোল-ভাতে খাই, মন যেন কোথাও হারালো।


রাত পোহায় শ্রমে, ঘাম ঝরে মুখের রেখায়,
কাউকে বলা যায় না, দুঃখ কতটা গেঁথে রয় হেঁয়ায়।
বেতন এলেই হাসে সবাই, ভাগ হয় নোটের গন্ধ,
কেউ দেখে না হৃদয় ভাঙ্গা, চোখে জমা ক্ষোভের স্তব্ধ।


বিয়েতে যেতে পারিনি, ছোট ভাইয়ের নতুন জীবন,
ভিডিও কলে বলি, “ভাই, শুভ হোক তোর বরণ।”
মনে পড়ে বাড়ির গলি, সন্ধ্যার বাতাস নরম,
এখানে কংক্রিটে বেঁচে থাকা — মরুভূমির শরম।


ছুটিতে যাই ছ’বছরে একবার, সময় চায় কর্তা,
মা বলে, “তুই এলে ঘরটা যেন প্রাণ পায় অগতা।”
ফিরেই আবার বিমানবন্দরে, চোখে জল জমা,
মা’র হাসি ভাসে পেছনে, আর আমিতো নিঃসঙ্গ যমা।


পরের দেশে পাখি হয়ে উড়ি, খাঁচা খুঁজি ফের,
দিনরাত মিলে এক হয়, ঘুম হয় না গেরস্থ ঘর।
কারও দুঃখ বুঝে না কেউ, ব্যস্ত যে যার মতো,
মানুষের ভিড়ে একলা আমি, চোখে হাজার কথা।


আয়নায় দেখি এক মুখ, চেনা বড়ই কম,
বয়স বাড়ে না, ক্লান্তি জমে — স্বপ্ন পড়ে নরম।
পোস্টারে হাসে পরীর মত বউয়ের মুখ,
বাস্তবে ফোনে শোনা যায় অভিযোগের সুখ।


অফিস শেষে হাঁটতে হাঁটতে ভাবি, আজ কী পেতাম,
যদি থাকতাম দেশের মাটিতে, মা’র হাতে ভাত খেতাম।
এখানে কাঁধে ব্যাগ, মনে চাপা বোঝা,
কেউ দেখে না এই গল্প, কেউ দেয় না সোজা।


ভাষার জটিলতায় হারায় মন, হাসি হয় না সাড়া,
ফর্ম পূরণেও লাগে ভয়, ভুল বুঝে করে ধরা।
তবুও স্বপ্ন বুনে যাই, দেশের মাটির আশায়,
জানি না কবে ফিরব, ভিসা কাটে বুকের পাশায়।


ঈদে রেমিটেন্স পাঠাই, বাড়িতে খুশির হাওয়া,
এখানে এক কাপ চা, একা বসি, নেই কাউর চাওয়া।
পকেটে টাকা থাকলেও মনে তৃষ্ণা বাড়ে,
ভালো থাকার অভিনয়টাই শুধু রপ্ত হয় পরে।

প্রবাসী নিয়ে স্ট্যাটাস

আজকের দিনে প্রবাসী মানেই একদিকে স্বপ্নপূরণের সংগ্রাম, অন্যদিকে প্রিয়জনদের থেকে দূরে থাকার অশ্রুভেজা গল্প। হাজারো কষ্ট, একাকীত্ব আর দায়িত্ববোধ নিয়ে যারা প্রবাসে জীবন যাপন করছেন, তাদের মনের ভাষা ফুটিয়ে তোলার জন্যই এই পোস্ট। এখানে থাকছে কিছু প্রবাসী নিয়ে মন ছুঁয়ে যাওয়া স্ট্যাটাস, যা প্রবাসী ভাইবোন কিংবা তাদের প্রিয়জনদের হৃদয় স্পর্শ করবে।

“প্রবাস জীবন মানেই হাসির আড়ালে চাপা কান্না, প্রিয়জনদের মুখ মনে করে প্রতিদিন ঘুম ভাঙা।”

“টাকার বিনিময়ে যে হাসি হারিয়ে যায়, তাকে বলে প্রবাস।”

“মায়ের হাতের ভাত আর নিজের মাটির গন্ধ—এই দুটোই সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয় প্রবাসে।”

“প্রবাসে কেউ বন্ধু হয় না, এখানে সবাই শুধু সময় কাটানোর মানুষ।”

“দেশের মাটির গন্ধ শুধু স্মৃতিতে পাওয়া যায়, বাস্তবে নয়—এই কষ্টটাই প্রবাসীদের প্রতিদিনের সঙ্গী।”

“হাতে টাকা থাকলেও, পাশে কেউ থাকে না—এটাই প্রবাসের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।”

“তোমরা যারা বলো—প্রবাস জীবন স্বপ্নের মতো, তারা হয়তো প্রবাসের কান্না শোনোনি এখনো।”

“প্রবাসে জীবন মানে না বলা হাজার কথা, বুকের ভেতরে জমে থাকা বিষণ্ণতা।”

“প্রবাসীরা হাসে, কারণ কাঁদলে কেউ দেখবে না—তাই নিজেকেই সান্ত্বনা দেয়।”

“সুখী মানুষ হতে চাইনি, শুধু পরিবারটা সুখে থাকুক বলেই প্রবাসে এসেছি।”

পুরুষ মানুষের কষ্ট নিয়ে উক্তি

প্রবাসীদের নিয়ে কিছু কথা

প্রবাসীরা কখনো কাউকে বোঝাতে পারে না—ওদের হাসির আড়ালেই সবচেয়ে বেশি কষ্ট লুকানো থাকে।

নিজের দেশের মাটির গন্ধ ভুলে যাওয়ার চেয়ে ভয়ঙ্কর কিছু নেই — প্রবাসীরা সেই অভ্যস্ততার ভেতরেই বাঁচে।

প্রবাসে থাকা মানে পরিবারের পাশে না থেকেও পাশে থাকার ভান ধরে যাওয়া — শুধু অর্থে, আবেগে নয়।

রাতের বেলা দেশের ঘুমন্ত মানুষদের ছবি দেখে কাটে অনেক প্রবাসীর নিঃসঙ্গ মুহূর্ত।

ফোনের ওপাশে মা জিজ্ঞেস করেন, “ভালো আছিস তো?” — অথচ সেই প্রশ্নেই জমে থাকা কান্না গিলে ফেলতে হয়।

এখানে কাউকে ডাকলে পাশে দাঁড়ায় না কেউ, সবাই ব্যস্ত নিজের স্বপ্নের পিছনে — আর প্রবাসী ব্যস্ত দায় মেটানোর দৌড়ে।

উৎসবে পরিবারের জন্য উপহার পাঠালেও প্রবাসীর নিজের জন্য কেউ কিছু পাঠায় না — ওদের চাওয়া যেন অপাংক্তেয়।

প্রবাসীরা দেশের মাটি থেকে দূরে থাকলেও, প্রতিদিন দেশের খবর খুঁজে বেড়ায়—এটাই ওদের বেঁচে থাকার অক্সিজেন।

অনেকে ভাবে প্রবাস মানে বিলাসিতা, অথচ অনেক সময় প্রবাসী মানুষটিই নিজের জন্য একটা নতুন জুতা কিনতে ভয় পায়।

প্রবাসীরা টাকার হিসেব দিতে দিতে এক সময় নিজের অস্তিত্বের মূল্যও সংখ্যা দিয়ে মাপতে শিখে যায়।

প্রবাসীদের কষ্টের গল্প

নিচে একটি গা শিউরে ওঠা বাস্তবসম্মত প্রবাসীর কষ্টের গল্প দিলাম, যা মানুষের হৃদয়ে নাড়া দিতে পারে:


গল্পের নাম: “একটা চোট না বলা চিঠি”

নাম: রাশেদ
স্থান: দুবাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত
পেশা: নির্মাণ শ্রমিক
সময়: ৫ বছর

গল্প শুরু:
রাশেদ গিয়েছিল স্বপ্ন নিয়ে — মায়ের চোখের পানি মুছে দেবে, ছোট ভাইকে পড়াবে, মাটির ঘরটা পাকা করবে।
দালাল তাকে বলেছিল, “দুবাই গেলে টাকা কুড়াতে হবে।”
তিন লাখ টাকা ঋণ করে বাড়ি বিক্রি করে দিয়ে রাশেদ পা রাখল মরুভূমির দেশে।

বাস্তবতা শুরু:
প্রথম দিনেই বুঝল — স্বপ্ন আর বাস্তবের দূরত্ব অনেক।
প্রচণ্ড গরম, ১৪ ঘণ্টার কাজ, খেতে দেয় শুকনো রুটি আর এক বোতল পানি।
বেতন ৯০০ দিরহাম, তাও দুই মাসে একবার।
ঘুমায় ১৫ জন এক রুমে, জানালা নেই, পাখা নেই।

একদিন কাজের সময় হঠাৎ স্ক্যাফোল্ডিং ভেঙে পড়ে যায়। ডান পা-টা ভেঙে যায় রাশেদের।
বস হাসপাতালে নেয় না। বলে, “তুমি তো এখন অকেজো, দেশে ফিরে যাও।”
কিন্তু ভিসা শেষ হয়নি, ঋণ শোধ হয়নি — দেশে ফিরবে কীভাবে?

সবচেয়ে গা শিউরে ওঠা মুহূর্ত:
একদিন রাত ৩টার দিকে রাশেদ মোবাইলে একটা ভিডিও রেকর্ড করে —
“মা, আমি যদি না ফিরি, আমার ছোট ভাইটাকে পড়া বন্ধ কইরো না।…
আমি দেশে ফিরতে চাই, কিন্তু আমার দুইটা পা নেই আর।
ওরা আমার চিকিৎসা করেনি, আমি নিজেই হুইলচেয়ারে শিখে নিয়েছি বাঁচতে।
তোমাদের কষ্ট না হোক এইজন্যই তো এসেছিলাম, কিন্তু এখন আমি নিজেই একটা বোঝা হয়ে গেছি…”

সেই ভিডিও ভাইরাল হয়।
স্থানীয় এক মানবাধিকার সংস্থা তাকে উদ্ধার করে দেশে পাঠায়,
কিন্তু রাশেদ আর হাঁটতে পারে না।
বাড়ির উঠানে বসে, সন্ধ্যায় গরিব ছেলেমেয়েদের পড়ায়।
মা বলে — “আমার ছেলে সোনার মানুষ। বিদেশ না গিয়ে দেশে থাকলেও হতো।”


গল্পের বার্তা:

এই গল্প শুধু রাশেদের না — হাজারো প্রবাসীর প্রতিদিনের বাস্তবতা।
ওরা নিজেদের জীবনকে পুড়িয়ে আপনজনের স্বপ্নকে আলো দিতে চায়,
কিন্তু অনেক সময় সেই স্বপ্নগুলোই ওদের চিরকালের জন্য পঙ্গু করে দেয়।

প্রবাসী বাবাকে মিস করা নিয়ে স্ট্যাটাস

এই স্ট্যাটাসগুলো সেইসব প্রবাসীদের হৃদয়ের অনুভূতির ভাষা, যারা দেশ থেকে দূরে থেকেও দেশের টান ভুলতে পারেন না। তুমি চাইলে এগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে প্রবাসীদের সম্মান জানাতেও ব্যবহার করতে পারো

Ayan

আয়ান, বাংলা ভাষার প্রেমে পড়া একজন সৃজনশীল লেখক, যিনি মনোমুগ্ধকর ক্যাপশন, স্ট্যাটাস ও উক্তি লিখে পাঠকদের মন জয় করেন। শব্দের মাধ্যমে আবেগ প্রকাশ করাই তাঁর অন্যতম নেশা। ভালোবাসা, অনুপ্রেরণা, বন্ধুত্ব, হাসি-মজা—সব ধরনের ক্যাপশন লেখার ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা অসাধারণ। পছন্দের বিষয়: ক্যাপশন রচনা, সাহিত্য, উক্তি ও জীবন দর্শন।