ইসলামে ক্ষমা প্রার্থনা বা ইস্তেগফার হলো বান্দার জন্য আল্লাহর রহমত পাওয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। মানুষের জীবন পাপমুক্ত নয়, ভুল-ত্রুটি প্রতিদিনই হয়ে থাকে। আর সেই ভুল থেকে ফিরে আসার সবচেয়ে সুন্দর, পূর্ণাঙ্গ ও শ্রেষ্ঠ দো‘আ হলো সাইয়েদুল ইস্তেগফার (سيد الاستغفار)।
এই দো‘আকে রাসূলুল্লাহ ﷺ ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দো‘আ বলে উল্লেখ করেছেন। এই আর্টিকেলে আমরা জানবো—
- সাইয়েদুল ইস্তেগফার কী
- সাইয়েদুল ইস্তেগফার আরবি দোয়া
- বাংলা উচ্চারণ
- বাংলা অর্থ
- পড়ার নিয়ম
- ফজিলত ও মর্যাদা
- কোন হাদিসে এসেছে
- PDF ও ছবি সম্পর্কে তথ্য
সবকিছু সহিহ হাদিসের আলোকে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হবে।
সাইয়েদুল ইস্তেগফার কী?
“সাইয়েদুল ইস্তেগফার” শব্দের অর্থ হলো —
ক্ষমা প্রার্থনার নেতা বা শ্রেষ্ঠ ইস্তেগফার।
এটি এমন একটি দো‘আ যেখানে—
- আল্লাহর রবুবিয়াত স্বীকার করা হয়েছে
- বান্দার দাসত্ব ঘোষণা করা হয়েছে
- নিজের গোনাহের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে
- আল্লাহ ছাড়া ক্ষমা করার কেউ নেই—এই বিশ্বাস প্রকাশ করা হয়েছে
এই দো‘আতে তাওবার সব শর্ত একসাথে বিদ্যমান, এজন্যই এটিকে ইস্তেগফারের শ্রেষ্ঠ দো‘আ বলা হয়।
সাইয়েদুল ইস্তেগফার আরবি দোয়া
سيد الاستغفار – আরবি দো‘আ
اَللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّىْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، خَلَقْتَنِىْ وَأَنَا عَبْدُكَ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ، أَعُوْذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ، أَبُوْءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَىَّ، وَأَبُوْءُ بِذَنْبِىْ، فَاغْفِرْ لِىْ، فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلَّا أَنْتَ
সাইয়েদুল ইস্তেগফার বাংলা উচ্চারণ
বাংলা উচ্চারণ সহ সাইয়েদুল ইস্তেগফার
আল্লা-হুম্মা আনতা রব্বী লা ইলা-হা ইল্লা আনতা,
খালাক্বতানী ওয়া আনা ‘আবদুকা,
ওয়া আনা ‘আলা ‘আহদিকা ওয়া ওয়া‘দিকা মাসতাত্বা‘তু।
আ‘ঊযুবিকা মিন শার্রি মা ছানা‘তু।
আবূউ লাকা বিনি‘মাতিকা ‘আলাইয়া,
ওয়া আবূউ বিযাম্বী ফাগফিরলী,
ফাইন্নাহূ লা ইয়াগফিরুয্ যুনূবা ইল্লা আনতা।
সাইয়েদুল ইস্তেগফার অর্থ (বাংলা)
বাংলা অর্থ সহ সাইয়েদুল ইস্তেগফার
“হে আল্লাহ! তুমি আমার পালনকর্তা।
তুমি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।
তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ, আর আমি তোমার বান্দা।
আমি আমার সাধ্যমতো তোমার সাথে করা অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতিতে দৃঢ় আছি।
আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই।
আমি আমার ওপর তোমার দেওয়া নিয়ামতের স্বীকৃতি দিচ্ছি
এবং আমি আমার গোনাহের কথাও স্বীকার করছি।
অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করো,
কেননা তুমি ছাড়া পাপ ক্ষমা করার কেউ নেই।”
সাইয়েদুল ইস্তেগফার পড়ার নিয়ম
অনেকেই জানতে চান— সাইয়েদুল ইস্তেগফার কীভাবে পড়তে হয়?
সহিহ হাদিস অনুযায়ী—
পড়ার উত্তম সময়
- সকালে (ফজরের পর)
- সন্ধ্যায় (মাগরিবের পর বা রাতে)
কতবার পড়তে হবে?
- অন্তত ১ বার
- চাইলে ৩/৫/৭ বার পড়া যায়
কী অবস্থায় পড়তে হবে?
- পূর্ণ বিশ্বাস ও আন্তরিকতার সাথে
- গোনাহ ছেড়ে দেওয়ার নিয়ত করে
সাইয়েদুল ইস্তেগফার এর ফজিলত
১. জান্নাতের নিশ্চয়তা
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“যে ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে দিনে এটি পড়ে রাতে মারা যায়, অথবা রাতে পড়ে দিনে মারা যায়—সে জান্নাতী হবে।”
সহিহ বুখারী, হাদিস: ৬৩০৬
২. গোনাহ মাফের সবচেয়ে শক্তিশালী দো‘আ
এই দো‘আতে বান্দা নিজেই তার অপরাধ স্বীকার করে নেয়—যা তাওবার মূল ভিত্তি।
৩. আল্লাহর নিকট প্রিয় ইস্তেগফার
সব ধরনের ইস্তেগফারের মধ্যে এটিই সর্বশ্রেষ্ঠ।
৪. হৃদয়ে শান্তি ও আত্মিক প্রশান্তি
নিয়মিত পড়লে অন্তরে এক ধরনের স্বস্তি ও প্রশান্তি আসে।
সাইয়েদুল ইস্তেগফার কোন সুরার আয়াত?
অনেকে মনে করেন এটি কুরআনের আয়াত, কিন্তু বাস্তবে—
সাইয়েদুল ইস্তেগফার কুরআনের কোনো আয়াত নয়
এটি রাসূলুল্লাহ ﷺ এর শেখানো দো‘আ, যা সহিহ হাদিসে বর্ণিত।
সাইয়েদুল ইস্তেগফার সম্পর্কে হাদিস
সহিহ বুখারী
মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস: ২৩৩৫
অধ্যায়: দো‘আ সমূহ
অনুচ্ছেদ: ইস্তিগফার ও তওবা
এই হাদিসটি সর্বসম্মতভাবে সহিহ।
সাইয়েদুল ইস্তেগফার বাংলা PDF ও ছবি
অনেকেই খোঁজেন—
- সাইয়েদুল ইস্তেগফার pdf
- সাইয়েদুল ইস্তেগফার বাংলা অর্থসহ pdf
- সাইয়েদুল ইস্তেগফার ছবি hd
কেন আমাদের প্রতিদিন সাইয়েদুল ইস্তেগফার পড়া উচিত?
- আমরা প্রতিদিনই গোনাহ করি
- আমরা প্রতিদিনই আল্লাহর নিয়ামত পাই
- আমরা প্রতিদিনই আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাই
আর এই দো‘আ সবকিছু একসাথে পূরণ করে।
উপসংহার
সাইয়েদুল ইস্তেগফার শুধু একটি দো‘আ নয়—এটি একজন মুমিনের দৈনিক আত্মশুদ্ধির চাবিকাঠি।
যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে এই দো‘আ পড়ে, আল্লাহ তার গোনাহ মাফ করেন, হৃদয় পরিষ্কার করেন এবং জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।
👉 আজ থেকেই নিজের জীবনে এই দো‘আ চালু করুন
👉 পরিবারকেও শেখান
👉 আল্লাহর রহমতের দরজা খুলে দিন

