কবিতা হলো মনের গভীর অনুভবের প্রকাশ। আর যখন সেই কবিতা হয় ছোট — কয়েকটি লাইনে গাঁথা — তখন তা হয়ে ওঠে কোমল, হৃদয়গ্রাহী ও সহজবোধ্য। ছোট কবিতা কম শব্দে বেশি অর্থ বহন করে, যা শিশু থেকে শুরু করে বড়দের মনেও গভীর প্রভাব ফেলে।
কখনো তা আনন্দের বার্তা দেয়, কখনো বা জীবনের গভীর বোধ জাগিয়ে তোলে। প্রকৃতি, দেশপ্রেম, বিদ্যালয়, ঋতু বা শিশুমনের কল্পনা — সবকিছুই ছোট কবিতার উপকরণ হতে পারে।
এখানে আপনি পাবেন:
কবিতা: নতুন ভোর
নতুন ভোরে রোদের হাসি,
জেগে ওঠে পাখির বাসি।
সবুজ ঘাসে শিশির পড়ে,
নতুন দিনের আশা জাগে ঘরে।
চুপিচুপি হাওয়া চলে,
গল্প বলে পাতার তলে।
জীবন যেন এক ফুলবাগান,
প্রতিদিনে নব গান।
কবিতা: চাঁদের আলো
নীরব রাতে চাঁদটা ওঠে,
আলো মেখে আকাশ ছোটে।
জোৎস্না পড়ে ঘাসের গায়ে,
শান্ত সুরে মনকে ছোঁয়ে।
সাদা মেঘের নৌকায় চড়ে,
ঘুম পাড়ায় স্বপ্ন ঘরে।
চাঁদের কিরণ গায় যে গান,
ভেসে আসে নির্জন প্রাণ।
কবিতা: বৃষ্টির গান
টুপটাপ শব্দে নামে,
বৃষ্টি যেন গানেই থামে।
টিনের চালে টকটক শব্দ,
মনটা জুড়ে বাজে রাগ রাগিণী রথ।
গাছের পাতায় ঝরে জল,
মাটির গন্ধে ভরে মনবল।
একটুখানি কুয়াশা ছোঁয়া,
বৃষ্টির মাঝে প্রাণটা নোয়া।
কবিতা: শিশু ও পাখি
চড়ুই পাখি গাছের ডালে,
শিশু দেখে দাঁড়িয়ে টালে।
একটি দুটি ডানা মেলে,
পাখি উড়ে দূর আকাশে চলে।
শিশু ভাবে “আমিও যাই”,
স্বপ্ন ছুঁই নীল খামে তাই।
বন্ধু হবে সেই পাখিটি,
একসাথে খেলবে দুপুরবেলা খাঁটি।
কবিতা: প্রকৃতির ছোঁয়া
সবুজ পাতায় রোদের আঁচ,
বনের ভেতর বাজে বাঁচ।
পাহাড় ডাকে আপন সুরে,
নদী হাসে ঢেউয়ের তুরে।
পাখির ডাকে সকাল জাগে,
ফুলের গন্ধ বাতাসে লাগে।
প্রকৃতি দেয় শান্তি বুকে,
ভালোবেসে থাকি সুখে।
কবিতা: স্বপ্নের পাখি
ডানা মেলে স্বপ্ন উড়ে,
আকাশ জুড়ে তারা ধরে।
ভয়কে পিছে ফেলে এসে,
চায় যে শুধু আলোর দেশে।
তোমার ভেতর ওই পাখি,
ঘুম ভেঙে তোল ছুটি রাখি।
স্বপ্ন যদি সত্যি চাও,
মন খুলে দিগন্ত দাও।
কবিতা: সকাল বেলা
পাখির ডাকে ঘুমটা ভাঙে,
রোদটা আসে জানলা টাঙে।
দুধ-রুটি খেয়ে ব্যাগটি কাঁধে,
শিশু ছুটে স্কুলের সাধে।
রাস্তায় হাঁটে কাকের দল,
ফুলে ফুলে ভরে বল।
সকালের এই মধুর হাসি,
নতুন দিনের ভালোবাসি।
কবিতা: নদীর গান
নদী বয় চলে ছুটে,
কখনো বা ঢেউয়ে ফুঁটে।
কুলে কুলে খেলে সে,
শিশিরভেজা বালুকাতে।
কখনো শান্ত, কখনো জোরে,
গল্প বলে গাঙচিল ঘোরে।
নদীর সুরে মনটা ভরে,
ভালো লাগে দূর পাহাড় চূড়ে।
কবিতা: রঙের খেলা
ইঁদুর-বেড়াল খেলে হুটোপুটি,
রঙের ডিব্বা খুলে যায় লুটি।
নীল, সবুজ, হলুদ রঙে,
শিশুরা তো আনন্দ ঢঙে।
আকাশটা নীলে আঁকা,
সাথেই রঙিন ফুলের বাক্সা।
রঙের মাঝে স্বপ্ন হাসে,
শৈশব যেন কল্পনাতে ভাসে।
কবিতা: মেঘ ও রোদ্দুর
আকাশে চলে মেঘের খেলা,
লুকোচুরি দিনভর মেলা।
কখনো রোদ, কখনো ছায়া,
আলোর মাঝে অন্ধকারের মায়া।
রোদ্দুর হাসে গোধূলি বেলায়,
রঙ মিশে যায় সোনার ঢালায়।
এই খেলার নেই কোনো শেষ,
মেঘ-রোদ্দুর ভালোবেসে বেশ।
কবিতা: ঘাসফুলের মন
ঘাসফুল বলে হাওয়াকে,
“আমায় ছুঁইস্ মোলায়েম ডাকে।”
তুমি এলেই দুলে উঠি,
মনটা হাসে ফুলের রুটি।
রোদ্দুর এসে বলল হেসে,
“তোমায় দেখে মনও ভেসে।”
ঘাসফুল জানে ছোট সে বটে,
তবু তাতে ভালোবাসা জটে।
কবিতা: তারার দেশে
রাতের আকাশ তারায় ভরা,
চাঁদটি যেন রূপের ধরা।
তারা বলে, “এসো খুঁজি,”
স্বপ্ন-ঘেরা এক সুখ দুঝি।
উড়ি চলো কল্পনায়,
ডানা মেলে তারার ছায়ায়।
স্বপ্নেরা হাতছানি দেয়,
মনের পাখা ভেসে বেড়ায়।
কবিতা: আম গাছের গল্প
পথের ধারে আমের গাছ,
ছায়া দেয় আর ফলের চাচ।
গ্রীষ্ম আসলেই ভরে যায়,
পাকা আমে গন্ধ ছড়ায়।
শিশুরা খেলে গাছের তলে,
গান গায় তারা মিলে-দলে।
এই গাছটার কত যে সাথী,
গ্রীষ্ম জুড়ে বন্ধু খাঁটি।
কবিতা: ঘুড়ির স্বপ্ন
ঘুড়ি ওড়ে নীল গগনে,
ডানা মেলে রঙের বনে।
তালগাছ পেরিয়ে দূরে যায়,
তারে ধরার সাধই চায়।
হাওয়ার সাথে কথা বলে,
লুকায় রোদ্দুর মেঘের তলে।
শিশু ভাবে—আমিও উড়ি,
স্বপ্ন পুঁটি বুকে জুড়ি।
কবিতা: শীতের সকাল
কুয়াশায় ঢাকা মাঠের ধারে,
রোদ উঠে ধীরে ঘাসের পাড়ে।
কান কাঁপে, নাক লাল হয়,
তবুও মনে আনন্দ রয়।
টুকটাক গরম খিচুড়ির গন্ধ,
শীতের মাঝে আলাদা ছন্দ।
কম্বলে মোড়া একটা দিন,
চায়ের কাপে জমে রিনরিন।
কবিতা: নির্বাক পাতা
পাতারা সব হাওয়ায় দোলে,
কিছু বলে, আবার না বলে।
মেঘের ছায়া পাতা ছুঁয়ে,
আলো-আঁধারির খেলা বুঁইয়ে।
নির্বাক থেকেও গল্প বলে,
হৃদয় ছুঁয়ে যায় নিমেষে।
একটি পাতা ঝরে পড়ে,
স্মৃতির মতো মাটির ঘরে।
বাংলাদেশ নিয়ে ছোট কবিতা
সবুজে ঘেরা মাঠের দেশ,
নদীমাতৃক মায়ার স্পর্শ।
রক্তে কেনা স্বাধীন মাটি,
বিজয় গাথা আজও খাঁটি।
পাখির গান, শাপলা ফুল,
ধানের খেতে সোনার রূল।
বাংলা ভাষা, বাংলা গান,
বাংলাদেশই আমার প্রাণ।
স্কুল নিয়ে ছোট কবিতা
ভোরের রোদে ব্যাগটা কাঁধে,
দৌড়ে যাই স্কুলের সাধে।
বন্ধুদের মুখে হাসি,
শেখা আর খেলার আভাসি।
সাদা জামা, টিপটপ বুক,
শিক্ষক বলেন আদর মিশুক।
স্কুল মানেই সুখের ভেলা,
জ্ঞান আর স্বপ্নে ভরা মেলা।
স্বাধীনতা নিয়ে ছোট কবিতা
রক্তে রাঙা সেই পথ ধরে,
এলো বিজয় লাল সবজে চরে।
একটি ভাষা, একটি দেশ,
স্বপ্ন ছিলো অদম্য শেষ।
যুদ্ধ করে ছিনিয়ে আনি,
বাংলার মুখে হাসির বাণী।
স্বাধীনতা, গৌরব-গাঁথা,
চিরদিনের প্রেরণামন্ত্র লেখা।
উপসংহার:
ছোট কবিতা কেবল সাহিত্যচর্চার মাধ্যম নয়, এটি মনের প্রশান্তি ও সৃজনশীলতার একটি মৃদু দরজা। সহজ ভাষা, সুরেলা ছন্দ ও হৃদয়ছোঁয়া ভাবনায় গাঁথা এই কবিতাগুলি পাঠককে এক নিমিষে অন্য জগতে নিয়ে যেতে পারে। ছোট কবিতার মাধ্যমেই নতুন প্রজন্মকে ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করানো যায় সহজে ও আনন্দে। তাই ছোট কবিতা আমাদের জীবনে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে।


